পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৭ অক্টোবর: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’- এর প্রভাবে আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা দিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়। মঙ্গলবার দুপুর থেকেই খড়্গপুর- সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় আকাশের মুখ ভার হতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ। তার সঙ্গে দমকা হাওয়া, মেঘের গর্জন এবং বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় স্বাভাবিক জনজীবনে প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে, বেলদা ও দাঁতনের একাধিক এলাকায় ঝড়ের দাপটে ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছে। কোথাও ভেঙ্গে পড়েছে বাড়ির অংশ, কোথাও উপড়ে গিয়েছে গাছ, আবার কোথাও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙ্গে পড়ায় বিপর্যস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ পরিষেবা। ঝড়ের প্রভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষিকাজও।

মঙ্গলবার দুপুরে খড়্গপুরের আকাশজুড়ে ঘন কালো মেঘের বিস্তার লক্ষ্য করা যায়। আকাশ অন্ধকার হয়ে আসার পাশাপাশি মাঝেমধ্যেই বইতে থাকে ঝোড়ো হাওয়া। মেঘের গর্জনের সঙ্গে শুরু হয় বৃষ্টিপাত। ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে আবহাওয়ার এই আকস্মিক পরিবর্তনে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়ায়। আবহাওয়া দপ্তরের তরফে আগেই বজ্রবিদ্যুৎ- সহ বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
খড়্গপুরে ঝড়- বৃষ্টির পরিস্থিতির মধ্যেই বেলদার কয়েকটি এলাকায় প্রবল ঝড়ের দাপটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ঘূর্ণায়মান ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে একাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙ্গে পড়েছে গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি। এর জেরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

ঝড়ের পর রাস্তায় গাছ ভেঙ্গে পড়ায় যান চলাচলেও সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বনদপ্তরের পক্ষ থেকে ভেঙ্গে পড়া গাছ কেটে রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চলছে। দ্রুত রাস্তা চলাচলের উপযোগী করে তোলার পাশাপাশি বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কতটা সময় লাগবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
শুধু বেলদা নয়, দাঁতনের বেশ কয়েকটি এলাকাতেও ঝড়ের দাপটে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে। ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি একাধিক ধানজমির ফসল নষ্ট হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে উদ্বেগে পড়েছেন এলাকার কৃষকরা। চাষের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ধানজমির ক্ষতি হওয়ায় তাদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
তবে কতটা জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কৃষকদের মোট ক্ষতির পরিমাণ কত, সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পরই কৃষিক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার জেলায় ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বৃষ্টির পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের আশঙ্কা থাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে জেলার আবহাওয়া আগামী কয়েক দিন কেমন থাকে, সেদিকেই নজর রয়েছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ইতিমধ্যেই ঝড়ে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙ্গে পড়েছে, সেখানে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
পরপর ঝড়- বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ঝড়ের সময় গাছের নীচে বা দুর্বল বাড়ির পাশে আশ্রয় না নেওয়া, ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তার থেকে দূরে থাকা এবং বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে অবস্থান না করাই নিরাপদ। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ও রাস্তা চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ কত দ্রুত সম্পন্ন হয়, এখন সেদিকেই নজর।
সব মিলিয়ে, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’- এর প্রভাবে পশ্চিম মেদিনীপুরে ঝড়- বৃষ্টির পরিস্থিতি ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। খড়্গপুরে বৃষ্টির সূচনা, বেলদায় বাড়িঘর ও বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর ক্ষতি এবং দাঁতনে কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতি, সব মিলিয়ে দুর্যোগের প্রভাব ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন জেলার বাসিন্দারা।

