আমাদের ভারত, ২৭ অক্টোবর: ক্যান্সারের ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপের প্রস্তাব দিল কেন্দ্রীয় সরকার। ১৩৮টি অ্যান্টি ক্যান্সার ওষুধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ। ট্রেড মার্জিন বেঁধে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্র সরকার।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দিয়ে কেন্দ্র জানিয়েছে, সমস্ত ওষুধের বাজারে একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে ওষুধের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। তবে হাসপাতালগুলিতে ওষুধের চড়া দাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। কেন্দ্রের বক্তব্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ যাতে সাধারণ মানুষের কাছে যুক্তিসঙ্গত দামে পৌঁছায় সেই লক্ষ্যেই বেছে বেছে কিছু ওষুধের ক্ষেত্রে মার্জিন নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি ওষুধের বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় রাখা এবং ওষুধ শিল্পের বিকাশ নিশ্চিত করাও সরকারের উদ্দেশ্য। কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, মার্জিন বেঁধে দেওয়ার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে, তবে সব ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ না করে, প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা উচিত বলে মনে করছে সরকার।
অন্যদিকে ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য এবং খুচরো বিক্রেতাদের কাছে তার দামের মধ্যে বিপুল ফারাক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। হাসপাতালগুলিতে একই ওষুধের জন্য রোগীদের কেন অনেক বেশি টাকা দিতে হচ্ছে? তা নিয়ে প্রশ্ন করেছে আদালত। ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির কাছ থেকে কর্পোরেট হাসপাতালগুলি যে কমিশন পায় তার বোঝা শেষ পর্যন্ত রোগীদের ওপর চাপছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শুনানিতে আদালত ১৬ শতাংশ মার্জিনের প্রস্তাবও বিবেচনার জন্য তুলে ধরেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাল্টা যুক্তি, চিকিৎসা পরিকাঠামো, আধুনিক যন্ত্রপাতি, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের বেতন এবং জরুরি পরিষেবা চালু রাখতে বিপুল খরচ হয়। তাই মার্জিন ১০ থেকে ২০% নামিয়ে আনা হলে হাসপাতালগুলির আর্থিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাদের দাবি তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলির মুনাফার হার প্রায় ১০%।
সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, জীবনদায়ী ওষুধের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু বাণিজ্যিক স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া যায় না। রোগীদের দরকষাকষি সুযোগও সীমিত। মামলার চুড়ান্ত নির্দেশ আপাতত স্থগিত রেখেছে আদালত। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সব পক্ষকে লিখিত বক্তব্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

