পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গি-সম্পর্ক নিয়ে শঙ্কিত বরিষ্ঠ শিক্ষাবিদ

অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ১৯ এপ্রিল: পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গি-সম্পর্ক বৃদ্ধির একাধিক খবরে চিন্তিত অনেকে। বরিষ্ঠ শিক্ষাবিদ ডঃ অচিন্ত্য বিশ্বাস মঙ্গলবার রাতে প্রশ্ন তুললেন, “এই অবস্থায় স্বরাষ্ট্র দফতর কী করছে জানি না।“

দিল্লির জহাঙ্গিরপুরীতে হিংসার ঘটনায় নাম জড়িয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা আনসার শেখের! সূত্রের খবর, এর তদন্তের জন্য দিল্লি থেকে আসছে গোয়েন্দা দল। কে এই আনসার, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গিয়েছে বিভিন্ন তথ্য। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আনসার সেখ আদতে বিহারের বাসিন্দা। তবে বৈবাহিক সূত্রে তাঁর অস্থায়ী ঠিকানা ছিল হলদিয়া ব্লকের কুমারপুর গ্রাম। তবে দানধ্যানের অভ্যাসের কারণে খুব অল্প সময়েই এলাকাবাসীর কাছে খুব চেনামুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। এ হেন আনসারের নাম দিল্লিতে পাথর ছোড়ার ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ায় রীতিমতো চিন্তিত কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।

প্রাক্তন উপাচার্য তথা ভারতীয় জাদুঘরের অছি পরিষদের সদস্য অচিন্ত্য বিশ্বাস এই প্রতিবেদককে জানান, “বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসার জন্য ঢাকার ভিসা অফিসের সামনের ভিড়ের ছবি ভাইরাল হয়েছে। দক্ষিণ ভারতের হাসপাতালে বাংলাদেশী রোগীদের কাউন্টার আছে। কলকাতার হাসপাতাল পাড়ার জন বিন্যাস দ্রুত বদলাচ্ছে। বীরভূমের দাতাপীর- হলদিবাড়ি- হিজলি- ঘুটিয়ারি শরীফের উরসে বিশেষ ট্রেন আসে ভর্তি হয়ে ফেরে ফাঁকা।

সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় রীতিমত চিন্তিত হাওড়ার অম্বিকা কুন্ডু বাই লেন এলাকার প্রযুক্তি-প্রেমীরা। বা, বলা যেতে পারে শঙ্কিত। প্রশ্ন উঠেছে, ঘরের কাছেই কি জঙ্গিদের গোপন আস্তানা? মোবাইলে বা কম্পিউটারে ওয়াই-ফাই অন করলেই দেখাচ্ছে দু’টি নেটওয়ার্ক— দুই জঙ্গি সংগঠনের নামে। আর তাতেই চোখ কপালে উঠেছে। এর পিছনে কারা? সত্যিই কি ওই ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক দু’টি চালাচ্ছে কোনও জঙ্গি সংগঠন? এ সব নানা প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে। উত্তর না জানা পর্যন্ত স্বস্তি পাচ্ছেন না কেউই।

অচিন্ত্যবাবু জানান, ”খুলনার এক তরুণী বিনা পাসপোর্টে যাচ্ছিল মুম্বাই, বিউটি পার্লারে চাকরি করত। পাতালরেলে পার্ক স্ট্রিট স্টেশনে সে পুত্র সন্তান প্রসব করে। এই পুত্র তো জন্মসূত্রে ভারতের নাগরিক! মুজিবুর রহমানের খুনী বছরের পর বছর কলকাতা শহরে গা ঢাকা দিয়ে থেকে মাস্টারি করেছে! খাগড়াগড় তো দিনের আলোর মত স্পষ্ট। এমন অসংখ্য ঘটনা ঘটছে।”

বাংলাদেশে বাড়ছে জেহাদিদের গতিবিধি। এবার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে আটক করা হয়েছে ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি’র (আরসা) এক জঙ্গিকে। এই ঘটনায় জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন স্থানীয় প্রশাসন ও সরকার। কয়েকদিন আগেই কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে হামলা চালায় মায়ানমারের জঙ্গি সংগঠন আরসা। সন্ত্রাসবাদীদের হামলা ও গুলিতে গুরুতর আহত হন ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা মহম্মদ হোসেন ও নুর বশর। শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দারা অবশ্য জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের শীর্ষনেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পর ক্যাম্পের ভেতরে আরসার তৎপরতা সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নানা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে আসছিলেন এই দুই রোহিঙ্গা। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত দুই মাসে বেশ কয়েক আরসা সদস্য পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। এই কারণে আরসা অনেক রোহিঙ্গাকে নিশানা করেছে। এদের অনেকে চোরাপথে সহজেই পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে পড়ছে বলে আশঙ্কা।

অচিন্ত্যবাবু জানান, “রোহিঙ্গাদের আসাটা আরও ভয়ঙ্কর। বর্তমান সিপিএম সম্পাদক বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে ভারত তার দায়িত্ব এড়াতে পারে না। শহুরে নকশালরা ওদের কোথাও কোথাও আন্তর্জাতিক শরণার্থীর পরিচয়পত্র দিচ্ছে। তারা কাশ্মীর থেকে কেরল ঘুরে বেড়াচ্ছে, অধিকাংশ জন্ম অপরাধী। এদের জন্য দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হয়েছে আশ্রয় শিবির। এর পিছনে রাজ্যের শাসকদের সমর্থন আছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *