মূল রাস্তায় সাইকেল চালানোর নিষেধাজ্ঞায় ক্ষুব্ধ কলকাতার ‘বাইসাইকেল মেয়র’

অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ১৯ এপ্রিল: পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় ধীর গতির যান বা সাইকেল আরোহীর মৃত্যু ঠেকাতে করোনাকালের আগের অবস্থান নিচ্ছে লালবাজার। অর্থাৎ, ২০২০-র মার্চ মাসের আগে শহরের যে সব রাস্তায় সাইকেল চলত, এখন থেকে শুধু সেই রাস্তাগুলিতেই সাইকেল চালানোর অনুমতি মিলবে। সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছেন শহরে সাইকেল চালানোর আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক বাইক্স (বিওয়াইসিএস) মনোনীত কলকাতার ‘বাইসাইকেল মেয়র’ শতঞ্জীব গুপ্ত।

মূল বা প্রধান রাস্তায় কোনও ভাবেই সাইকেল কিংবা ধীর গতির যান চালানো যাবে না বলে প্রতিটি ট্র্যাফিক গার্ডকে নির্দেশ দিয়েছেন খোদ পুলিশ কমিশনার। লালবাজার সূত্রের খবর, পূর্ব অবস্থানে ফিরতে গিয়ে যাতে আইনশৃঙ্খলা জনিত কোনও সমস্যা না হয়, সে দিকেও লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে ট্র্যাফিক গার্ডগুলিকে।

ট্র্যাফিক পুলিশের এক কর্তা জানান, সাইকেল চালানোর অনুমতি দেওয়ার ব্যাপারে ট্র্যাফিক পুলিশকে বলা হয়েছে প্রাক-করোনা অবস্থান নিতে। উল্লেখ্য, কোভিডে লকডাউনের পরে আর্থিক এবং সামাজিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় সাইকেল আরোহীদের ছাড় দিয়েছিল লালবাজার।

মঙ্গলবার শতঞ্জীব গুপ্ত এই প্রতিবেদককে বলেন, “মাননীয় পুলিশ কমিশনারের এই নির্দেশ নতুন নয়। বিদায়ী পুলিশ কমিশনার সৌমেন মিত্র মহাশয়ও গত নভেম্বর মাসেই একটি নির্দেশিকা জারি করেছিলেন। কিন্তু এভাবে সাইকেল নিষেধাজ্ঞা জারি করে সাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে না। কলকাতায় নিয়মিত যাঁরা সাইকেল চালান তাঁরা সাধারণত ছোট গলি রাস্তাতেই যাওয়া-আসা পছন্দ করেন (যদিও সেখানেও প্রবল গাড়ির দাপট)। কিন্তু কলকাতার ল্যান্ড-ইউজ প্যাটার্ন এমন – অফিস-কাছারি, বাণিজ্য এলাকায় পোঁছতে হলে বড় রাস্তায় উঠতেই হয়।”

পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে বিভিন্ন রাস্তায় মোটরবাইক, স্কুটার ও গাড়ির চেয়ে সাইকেলের সংখ্যা বেশি। এর ফলে সব চেয়ে বেশি দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন সাইকেল আরোহীরাই। সর্বাধিক সাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে ডায়মন্ড হারবার রোড এবং বাসন্তী হাইওয়েতে। গত বৃহস্পতিবার বাসন্তী হাইওয়েতে এক সাইকেল আরোহীকে বাঁচাতে গিয়ে উল্টে গিয়েছিল একটি ছোট মালবাহী গাড়ি।

শতঞ্জীববাবু বলেন, “কলকাতা পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শহর। লক্ষ লক্ষ মানুষ এই শহরে জীবিকা ও যাতায়াতের প্রয়োজনে সাইকেলের উপর নির্ভরশীল। কলকাতাবাসীর এই সাইকেল চালানোর প্রবণতা – শহরের পরিবহন সংস্কৃতির একটি ভালো দিক হিসেবে বিবেচনা হওয়া উচিত প্রশাসনের কাছে। জাতীয় নগর পরিবহন নীতি, ইন্ডিয়ান রোড কংগ্রেস, ন্যাশনাল ক্লিন এয়ার প্রোগ্রাম, গ্রিন সিটি মিশনের মতো কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের একাধিক পরিকল্পনা ও নীতিতে শহরে সাইকেল চালানোকে প্রাধান্য ও উৎসাহ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অথচ বারবার আমরা দেখছি এর উল্টোটাই ঘটে চলেছে। মহামান্য জাতীয় পরিবেশ আদালত কলকাতায় সাইকেল পথের নেটওয়ার্ক বানানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
কেএমডিএ সেই নির্দেশ অনুযায়ী ‘কমপ্রিহেনসিভ বাইসাইকেল প্ল্যান’ বানালেও তার বাস্তাবায়ন হচ্ছে না। উল্টে প্রশাসন সাইকেলকে নিরুৎসাহিত করার নীতি প্রয়োগ করছেন।

কলকাতার বড় চওড়া রাস্তায় অবিলম্বে সাইকেল লেন নির্দিষ্ট করা হোক। পাশাপাশি চিহ্নিত করা হোক এমন বহু রাস্তা যাতে সাইকেলই প্রাধান্য পাবে। দিক নির্দেশিত থাকবে সাইকেল আরোহীদের জন্য। যেমন থাকে অন্য মোটরযানের ক্ষেত্রে। ট্রাফিক বিভাগ সাইকেল আরোহীদের প্রতি সহৃদয় থাকুন। বিকল্প পথ না চিহ্নিত করে সাইকেলকে নিষেধাজ্ঞা করার এই নীতি কলকাতা শহরের লজ্জা।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *