আমাদের ভারত, ২১ ফেব্রুয়ারি: সদ্য প্রয়াত শিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় তাঁকে গান লিখতে বলেছিলেন। আর এক সদ্যপ্রয়াত শিল্পী বাপ্পি লাহিড়ির অনুরোধে তিনি গান লিখে দিয়েছিলেন। সোমবার প্রকাশ্য সভায় এই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নবতিপর সঙ্গীতশিল্পীর জীবনাবসানে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমে দাবি করেন, “ছেলেমানুষের মতো ছিলেন সন্ধ্যাদি। আমায় যখনই ফোন করতেন, বলতেন একটা গান শোনাও মমতা। আমি বলতাম দিদি আপনি গানের দিশারী। আমি আপানার সামনে কখনও গান গাইতে পারি? তিনি তাও নাছোড়বান্দা। বলতেন গান শোনাতেই হবে। আমায় তাই ফোনেই গান শোনাতে হত ওঁকে।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবি সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের জীবদ্দশায় কখনও প্রকাশ্যে আসেনি। শিল্পীর প্রয়াণের ঠিক পরে
মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় টিপ্পনি। এর মাঝেই সোমবার মুখ্যমন্ত্রী আরও এক ধাপ এগিয়ে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে দেশপ্রিয় পার্কে বলেন, বাপ্পি লাহিড়ীর অনুরোধে তিনি একটি গান লিখে দিয়েছিলেন। তবে বাপি লাহিড়ী সময়ের অভাবে গানটি গাইতে পারেননি বলেও আক্ষেপ শোনা গেল মমতার গলায়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাকে সন্ধ্যাদি বলেছিল গান লিখতে কিন্তু সেটা আর হয়ে ওঠেনি। সন্ধ্যাদিকে বিশেষ সম্মান জানাই। লতা মঙ্গেশকর মারা গিয়েছে তাই সুরের সরস্বতীকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না। বাপ্পি লাহিড়ী কিংবা লতা মঙ্গেশকর হারিয়ে গেলেও তাঁদের কাজ রয়ে যায়। এদিনের অনুষ্ঠানে আরও একবার সঙ্গীতশিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, লতা মঙ্গেশকর ও বাপ্পি লাহিড়ীর উদ্দেশে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একুশ তারিখটায় রোমাঞ্চ আছে, কেমন গা ছমছম করে, আন্দোলন আন্দোলন ভাব আসে। দুর্গাপুজোর একমাস আগে ১ সেপ্টেম্বর মিছিল করবো রাজ্যজুড়ে, ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তকমা দিয়েছে। তাই বাংলার শিল্প ও শিল্পীদের সম্মান জানাবো।

