জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৭ নভেম্বর: অবৈধভাবে বালি মজুতের অভিযোগে আরও এক বালি কারবারি ধরা পড়ল পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের জালে। পুলিশ সুত্রে জানাগেছে, ধৃতের নাম পারভেজ আলম সিদ্দিকি। সে দুর্গাপুরের বাসিন্দা। বিহারের মজফরপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করে আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেট পুলিশের গয়েন্দা বিভাগ। রবিবার তাকে দুর্গাপুর আদালতে তোলা হয়। বিচারক তার জামিন খারিজ করে দেন।
উল্লেখ্য, গত কয়েকবছর ধরে পশ্চিম বর্ধমান জেলার অন্ডাল, পান্ডবেশ্বর, জামুড়িয়া, কাঁকসাজুড়ে বালি মাফিয়াদের বাড়বাড়ন্ত। জেলার দুই প্রান্তে দুই নদ অজয় ও দামোদর। অজয় নদের বালির গুণগত মান উন্নত হওয়ায় তার চাহিদাও বেশী। আবার দামোদরের বালিরও চাহিদা রয়েছে। আর সেই সুযোগে অবৈধ বালি পাচারের রমরমা কারবার। গ্রিন ট্রাইবুনালের নির্দেশিকাকে উপেক্ষা করে দামোদর ও অজয় নদের বুক চিরে চলত মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন। অন্ডালের মদনপুর, শ্রীরামপুর, লাউদোহার গৌরবাজার ঘাট, কাঁকসার শিবপুর ঘাট, দেউল ঘাট, জঙ্গলঘাট, পেয়ারাবাগান, কোটালপুকুর ঘাট, সাতকাহানিয়া শ্মশান ঘাট, বসুধা ঘাট রয়েছে। বৈধ ঘাটের পাশাপাশি চলত অবৈধ বালিঘাট। রাজ্যে তৃতীয়বার তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর অবৈধ বালি পাচার বন্ধে তৎপর হয়। গত দু’মাস ধরে লাগাতার অভিযান চলছে বিভিন্ন বালিঘাট ও রাস্তার ওপর। ধরাও পড়েছে বেশ কিছু বালি মাফিয়া ও অসাধু বালি কারবারি। আটক হয়েছে বেশ কিছু লরি, ডাম্পার। গত জুন-জুলাই মাসে অবৈধ বালি মজুতের ওপর যৌথ অভিযান শুরু করে পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন ও কমিশনারেট পুলিশ। তাতে জেলার বিভিন্ন ব্লকে অজয় ও দামোদর নদী তীরবর্তী একাধিক জায়গায় অবৈধ বালি মজুতের রিপোর্ট হয় জেলা ভূমি রাজস্ব দফতরে। মজুত বালি কার, সে নিয়ে খোঁজ খবর শুরু হয় এবং বালির পরিমাণ অনুযায়ী জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ভূমি রাজস্ব দফতর সুত্রে জানা গেছে, গ্রিন ট্রাইবুনালের নির্দিশিকা অনুযায়ী বর্ষায় নদী থেকে বালি তোলা নিষিদ্ধ। কিন্তু বৈধ বালি ব্যাবসায়ীরা এপ্রিল- মে মাস থেকে ব্যাবসা চালানোর জন্য নদী তীরবর্তী জায়গায় বালি মজুত করে। জানাগেছে, এই বালি মজুতের জন্য জেলা ভূমি রাজস্ব দফতরে মজুত রাখা জমির ছাড়পত্র সহ অনুমতি নিতে হয়। সেই মত মজুত বালির পরিমাণ অনুযায়ী ১৬৫ টাকা প্রতি ১০০ সিএফটি বালির রয়েলটি ধার্য হয়। এবং সেটা জমা দেওয়ার পর ভূমি রাজস্ব দফতর চালান ইস্যু করে। তবে ওই বালি অবশ্যই বৈধ বালিঘাট থেকে তোলা হতে হবে। বৈধঘাট থেকে বালি তুললেও মজুত বালির কোনও অনুমতি না থাকায় অন্ডাল, পান্ডবেশ্বর, লাউদোহা, কাঁকসা, বারাবনি, জামুড়িয়ায় অবৈধ বালি মজুতের অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট ব্লকের স্থানীয় বিএলআরও। এবং স্থানীয় থানায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার অভিযোগ দায়ের হয়। সেই মতো পুলিশ ধরপাকড় শুরু করে। মাস কয়েকের মধ্যে বেশ কয়েকজন বালি মাফিয়া গ্রেফতার হয়। গত কয়েকমাস ধরে বালি কারবারি পারভেজ আলম সিদ্দিকি ফেরার ছিলেন। তার জেরে ওই মামলার তদন্ত কমিশমারেট পুলিশের গয়েন্দা বিভাগ হাতে নেয়। তদন্তে বিহারের মজফরপুর থেকে বালি কারবারি পারভেজ আলম সিদ্দিকিকে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের গোয়েন্দা দফতরের জালে ধরা পড়ে।
জানাগেছে, লাউদোহা থানার গৌরবাজার এলাকায় অবৈধ বালি মজুতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শনিবার সন্ধে নাগাদ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গোয়েন্দা দফতরের আধিকারিকরা পৌঁছে যায় পারভেজের ডেরাতে, সেখানে পুলিশের জালে ধরা পড়ে পারভেজ। রবিবার তাকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের গোয়ান্দা বিভাগের হেফাজতের নির্দেশ দেয় বিচারক। পারভেজ আলমের বিরুদ্ধে ৩৭৯, ৪১১, ও মাইনর মিনারেল আইনের ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের গয়েন্দা বিভাগ।

