ঘটনার ছ’দিনের মধ্যেই ছিনতাই দল গ্ৰেপ্তার, সাফল্য গঙ্গাজলঘাঁটি থানার পুলিশের

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাকুঁড়া, ৭ নভেম্বর: ছিনতাইয়ের ঘটনার ৬ দিনের মধ্যেই ছিনতাই চক্রকে পাকড়াও করে বড় সাফল্য পেল গঙ্গাজলঘাঁটি থানার পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার এই কৃতিত্বের বেশিরভাগ কৃতিত্বই গঙ্গাজলঘাটি থানার আইসি অসীম সরকার ও তার টিমকে দিতে চান।

পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার আজ সকালে গঙ্গাজলঘাঁটি থানায় একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে এই ছিনতাই দলের মাষ্টার মাইন্ড বড়জোড়া থানার সাহারজোড়া গ্রামের বছর তেইশের উঠতি যুবক রামপ্রসাদ ঘোষ ও তার ৭ সাগরেদদের হাজির করেন। তিনি বলেন, গত ১ নভেম্বর বাঁকুড়া- রানীগঞ্জ ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক ও বাঁকুড়া- দুর্গাপুর ৯ নম্বর রাজ্য সড়কের সংযোগকারি দেশুড়িয়া-ফুলবেড়িয়া রাস্তার উপর গঙ্গাজলঘাঁটি থানার কেন্দুয়াডিহি মোড়ের কাছে তারা এক বেসরকারি ব্যাঙ্কের লোন রিকোভারি এজেন্টকে আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমা ফাটিয়ে পথ আটকায়। বিকেল ৪ টের সময় ফাঁকা জায়গায় এই ঘটনা ঘটায় এলাকাবাসী স্তম্ভিত হয়ে যায়। দুটি বাইকে করে ৬ দুষ্কৃতি এসে বন্ধন ব্যাঙ্কের ওই কর্মী মাধব মাজির পিঠের ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়। ওই ব্যাগে ৫৩ হাজার টাকা নগদ ও ব্যাঙ্কের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজ ছিল। এরপর তিনি গঙ্গাজলঘাঁটি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বড়জোড়া থানার সাহায্য নিয়ে গঙ্গাজলঘাঁটি থানার আইসি অসীম সরকার শনিবার রাতে বিভিন্ন জায়গায় হানা দিয়ে ৮ দুষ্কৃতিকে গ্রেফতার করেন।

পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার জানান, ধৃত
দুষ্কৃতিদের মধ্যে ৫ জনের বাড়ি বড়জোড়া থানায়। ছিনতাইবাজদের মূল পান্ডা রামপ্রসাদ ঘোষ ওরফে পার্থ ও জয় বাউরি ওরফে সুটুল এই দুজনের বাড়ি সাহারজোড়া গ্রামে। বাকিরা হল ভৈরবপুরের গৌতম বাউরি, পিংরুই গ্রামের জীতেন বাউরি, বড়জোড়ার প্রণব কর্মকার। বাকি ৩ জন হল হৃদয় ঘোষ ওরফে বাপন ওরফে ডাংকা, জয়ন্ত বাউরি ও মন্টু লোহার। বাড়ি গঙ্গাজলঘাঁটি থানার শালবেদিয়া গ্রামে।
দুষ্কৃতিদের কাছ থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা, একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও দুটি মোটর বাইক উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুজোর ঠিক আগে মেজিয়া থানার পুলিশ ১৩ টি টোটো ও ২০ টি মোটরবাইক উদ্ধার করে।

পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার জানান, মাস খানেক আগে একটি চুরির গ্যাংকে আমরা লোকেট করি। কারণ অভিযোগ ছিল গঙ্গাজলঘাঁটি, মেজিয়া, শালতোড়া ও ছাতনা থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে ২টো টোটো ও ৪ টি বাইক চুরি যায়। এই গ্যাংটি গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত মোট ১৪ টি টোটো ও ২০ টি বাইক চুরি করে। এটি একটি আন্ত:রাজ্য ছিনতাই গ্যাং। পুজোর পর আরও একটি বাইক পাচার চক্রের পান্ডা সহ ৭ দুষ্কৃতিকে পাকড়াও করে ২৪ টি বাইক উদ্ধার করে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ। আগস্ট মাসে একটি সাইবার ক্রাইম চক্রের হদিশ পাওয়ার পর জালিয়াত চক্রটিকে গ্রেফতার করে কোটি কোটি টাকার প্রতারণার কিনারা করে জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশের পরপর এই সাফল্যে জেলাবাসীর মনে স্বস্তি ফিরলেও মেজিয়া শিল্পাঞ্চলে বেশ কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় কোনও কিনারা না হওয়ায় শিল্পাঞ্চলের মানুষ বেশ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তার ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসন আরও তৎপর হলেই সাফল্য মিলবে এমনই অভিমত তাদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *