অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ১২ এপ্রিল: বছরভর মূল সঙ্গী স্টেথো। কিন্তু চিকিৎসার সরঞ্জামের সঙ্গে অন্তসলিলাফল্গুর মত অবচেতনে বয়ে চলে ক্যামেরা, আরও নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে ছবি তোলার ভাবনা। বলছিলাম একাধারে প্রথিতযশা আলোকচিত্র শিল্পী ও প্রখ্যাত চিকিৎসক অশোক সেনগুপ্তর কথা।
‘ফোরাম ফর ফিল্ম স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যালায়েড আর্টস’-এর তরফে ১৫ এপ্রিল, বাংলা নববর্ষ থেকে আয়োজিত হতে চলেছে অশোক সেনগুপ্তর প্রথম একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘লেন্সড উইমেন’। একটি বহুল প্রচলিত বেসরকারি হাসপাতালের পালমোনোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রথম অশোকবাবু। শিশুকালে তাঁর ফোকাস মাঝেমধ্যেই ধেয়ে গিয়েছিল বাবার দেওয়া বক্স ক্যামেরায়। ক্রমশ কৌতূহল রূপান্তরিত হয়েছে আগ্রহে, এবং শেষমেশ মননের মধ্যে মিশে গিয়ে ফোটোগ্রাফি হয়ে উঠেছে তাঁর অন্যতম প্রকাশ মাধ্যম।

এই প্রতিবেদককে তিনি জানালেন, “বাবার দেওয়া সেই ক্যামেরায় বেশ ক’বছর ছবি তুলি। এর পর পয়সা জমিয়ে কিনলাম ‘প্র্যাকটো’ ব্র্যান্ডের একটা রুশ ক্যামেরা। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে যখন পড়ি, ছবি তুলিয়ে হিসাবে বন্ধুমহলে বেশ নামডাক ছড়িয়ে পড়ে। বিয়ের অনুষ্ঠানেও ছবি তোলার আবদার করতেন কেউ কেউ। এর পর ’৯৩-তে ইংলন্ডে গিয়ে কিনলাম ‘রাইকো’ ক্যামেরা। পরে ক্যানন ফিফটি ইওএস।”
তখনও ক্যামেরায় ডিজিটাল জমানা আসেনি। অশোকবাবুর কথায়, “১৯৯৯-তে স্কটল্যান্ডে গিয়ে যেন আরও ছবি তোলার প্রেমে পড়ে গেলাম। দু’বছরের ওপর এডিনবরা ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সদস্য হিসাবে অনেক কিছু শেখার সুযোগ হল। জোয়ার থাকলে তো ভাটাও থাকবে! এর পর দেশে ফিরে প্রায় এক দশকের ছবি তোলার ভাটা বলতে পারেন। ’১২-তে দক্ষিণ কলকাতার ‘ছায়াপথ’-এ ভর্তি হলাম। এক বছরের ডিপ্লোমায় শিখলাম অনেক কিছু। বয়স বাড়লেও, ছবি তোলার নেশা ছাড়েনি। আমার ছায়াসঙ্গী হয়ে চলেছে পিছু পিছু।”
তাঁর প্রথম একক প্রদর্শনীর মূল বিষয় নারী। কেন? বরিষ্ঠ চিকিৎসকের কথায়, “বলতে পারেন নারীদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ। ঘরে বাইরে ওঁদের অবদান এক একজন এক একভাবে দেখেন।” বিভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে কীভাবে সমাজে নারীর অবস্থান বদলে বদলে গিয়েছে, নারীকে ঘিরে সমাজের ভাবনা-চিন্তা, দেখার চোখ পরিবর্তিত হয়েছে সেই আখ্যানই উঠে এসেছে অশোক সেনগুপ্তর তৃতীয় চোখে আইসিসিআর-এর অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর্ট গ্যালারিতে এই আয়োজন। চলবে ১৭ এপ্রিল অবধি।

