অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ২৬ এপ্রিল: রাজ্যপালের ক্ষমতা খর্ব করে নতুন বিল পাশ করল তামিলনাড়ু বিধানসভা। এর ফলে এবার রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্য নিয়োগের ক্ষমতা থাকবে রাজ্য সরকারের হাতে। এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিলেন গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, মালদা-র প্রাক্তন উপাচার্য ডঃ অচিন্ত্য বিশ্বাস।
অচিন্ত্যবাবু বলেন, “শিক্ষাকে ‘গণতান্ত্রিক’ করার ধারণাটি তাত্ত্বিকভাবে বামপন্থী দর্শনের। এর ফলে গণতন্ত্র সমাজতান্ত্রিক দেশে শেষ পর্যন্ত ‘পার্টি-নিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্রে’ পর্যবসিত হয়।
“স্ট্যালিনের ভাষাতত্ত্ব” শিরোনামে একটি গবেষণাপত্র মাসখানেকের মধ্যে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা পড়েছিল। তিন মাসে সিদ্ধি লাভ! এক অধ্যাপক সেই ডিগ্রি দেখিয়ে চাকরিতে উন্নতিও করেছিলেন। অথচ প্রচলিত ভাষাতত্ত্বে স্ট্যলিনের অধিকার কতটা তা দেবতারাও জানেন না। এটা সম্ভব হয়েছিল, শিক্ষাকে কুক্ষিগত করার ফলে। এই রেড হ্যামার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাথায় পড়েছিল, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্যকে উপাচার্য করার পর।
উপাচার্য নিয়োগের ব্যাপারটি কতকটা ভারসাম্য রক্ষার মত। রাজ্যপাল, রাজ্যসরকার আর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুসন্ধানী দলের সুপারিশের মধ্যে একটি সম্ভাবনার অঙ্ক থাকে যা কাম্য ভারসাম্যটি রক্ষা করতে পারে। নিয়মটির সৌন্দর্য এইখানে। দিন দিন সব কিছুই ‘অতি রাজনীতি’ ও ‘অশিক্ষিত রাজনৈতিক নেতাদের’ খপ্পরে পড়েছে। ফলে উপাচার্য নিয়োগের পদ্ধতিতে শাসকদল এক বিন্দুও ফাঁক রাখতে চাইছে না।
ডিএমকে মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন নামের যোগ্য হয়ে উঠেছেন। তাঁর চোখে রাজ্যপালকে উত্তর ভারতীয় আধিপত্য (?) বাদের প্রতীক বলে মনে হয়ে থাকবে। এ রাজ্যেও তেমনি কিছু হতে চলেছে। হাতুড়ির রং বদল হয়েছে মাত্র।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ থেকে শুরু করে তামিলনাড়ু পর্যন্ত অ-বিজেপি রাজ্যেগুলিতে রাজ্যপাল বনাম সরকার সংঘাত তুঙ্গে উঠেছে। অভিযোগ, সাংবিধানিক প্রধানের পদটিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে গেরুয়া শিবির। সোমবার এহেন পরিস্থিতিতে তামিলনাড়ুর বিধানসভায় একটি বিতর্কিত বিল পেশ করে রাজ্যের শাসকদল ডিএমকে। মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের নির্দেশেই এই বিল পেশ করা হয়। নয়া বিলটির পক্ষে সদনে যুক্তি পেশ করে স্ট্যালিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য গুজরাটেও উপাচার্য নিয়োগ করে রাজ্য। তেলেঙ্গানা ও কর্ণাটকেও উপাচার্য নিয়োগের ক্ষমতা রয়েছে রাজ্য সরকারের হাতেই।”

