জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৪ জুলাই: পঞ্চায়েত অফিস থেকে ঢিল ছোড়া দুরত্বে জেলা পরিষদের উদ্যোগে রাস্তা নির্মানের শিলান্যাস অনুষ্ঠান। অথচ খোদ পঞ্চায়েত প্রধানই ডাক পেলেন না অনুষ্ঠানে। এমনকি এলাকার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা তথা দুই কর্মাধ্যক্ষও আমন্ত্রণ পাননি বলে অভিযোগ। বুধবার এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে কাঁকসার বনকাটি এলাকায়।
ঘটনায় জানা গেছে, বনকাটি পঞ্চায়েত এলাকায় অযোধ্যা হাইস্কুল থেকে ডাঙ্গাল পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার বেহাল রাস্তা নির্মানের উদ্যোগ নেয় পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদ। বুধবার ছিল রাস্তাটির শিলান্যাস অনুষ্ঠান। অযোধ্যা স্কুলের সামনে মন্ডপ তৈরী করে হয় অনুষ্ঠান। নারকেল ফাটিয়ে, সবুজ ফিতে কেটে হয় রাস্তার শিলান্যাস। উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের সহ সভাপতি সমীর বিশ্বাস। এছাড়াও জেলা পরিষদের ইঞ্জিনিয়ার, কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য দেবদাস বক্সী।

তবে এপর্যন্ত সবই ঠিকঠাক থাকলেও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন সেখানের খোদ পঞ্চায়েত প্রধান পিন্টু বাগদী। তিনি বলেন, “পঞ্চায়েতের ঢিল ছোড়া দুরত্বে শিলান্যাস অনুষ্ঠান হলেও আমাকে কোনও আমন্ত্রন জানানো হয়নি।” শুধু তাই নয়, এলাকার দুই পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা তথা কর্মাধ্যক্ষ সুনন্দা রায় মহন্তি ও বুলু রায়কেও আমন্ত্রন জানানো হয়নি।
সুনন্দাদেবী পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ। তিনি বলেন, “ডাঙ্গাল আমার নির্বাচিত এলাকার মধ্যে পড়ে। রাস্তা শিলানাস্যের কোনও অনুষ্ঠানের আমন্ত্রন পাইনি।” নারী ও শিশুকল্যান বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ বুলু রায় বলেন, “বনকাটি এলাকায় আমার বাড়ি। বনকাটি পঞ্চায়েত এলাকা থেকে পঞ্চায়েত সমিতির নির্বাচিত সদস্য। অথচ শিলান্যাস অনুষ্ঠানের কোনও আমন্ত্রন পাইনি। কেন পাইনি সেটাও জানি না।”
আর প্রশ্ন এখানেই, তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান, তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। অথচ তারাই পেলেন না আমন্ত্রণ? বিধানসভা নির্বাচনের পর কাঁকসা ব্লকে শাসকদলের গোষ্ঠীকোন্দল কি আবারও উসকে উঠছে?–প্রশ্ন এলাকার রাজনৈতিক মহলে। যদিও তৃণমূলের কাঁকসা ব্লক সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য দেবদাস বক্সী জানান, “জেলা পরিষদের অনুষ্ঠান। আমন্ত্রনের বিষয়টি জেলা পরিষদের।” তবে পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের সহ সভাপতি সমীর বিশ্বাস অবশ্য সাফাই দেন, “আমন্ত্রন করা হয়েছে। তবে কেন আসেননি জানা নেই।”

