আমাদের ভারত, ২ এপ্রিল: দিন যতো যাবে তত তীব্র হবে তাপপ্রবাহ। তার সাথেই বাড়বে হড়পা খড়ার ঘটনা। প্রবলভাবছ উষ্ণতা বাড়ার কারণে আগের চেয়ে এবার হড়পা খরা হবার প্রবনতা অনেকটাই বেশি হবে। । ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল সহ দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, উত্তর আমেরিকার মধ্যাঞ্চলে গরমকালে মাঝে মধ্যেই মাত্র দু-তিন দিনের মধ্যেই মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যাবে। ফুটিফাটা মাটিতে কোন ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে না। ফলে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে ভারত সহ দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৃষিনির্ভর দেশগুলি। একই অবস্থা হবে উত্তর আমেরিকার মধ্যাঞ্চলে স্টেট গুলোতেও।
সম্প্রতি একটি গবেষণায় এই উদ্বেগজনক খবরটি জানা গেছে। এই গবেষণাটি চালিয়েছেন আমেরিকার অস্টিন টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়, হংকং পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ও টেক্সাস টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণা পত্রিকা “ন্যাচার কমিউনিকেশন্স”এ সেই গবেষণা পত্রটির প্রকাশিত হয়েছে। হড়পা বানের মতোই হড়পা খরাও কোনো দিনক্ষণ মেনে আসবে না বা আসার আগে থেকে কোন ইঙ্গিত দেয় না।
গত দু’দশক ধরে এই খরার ঘটনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। হড়পা খড়া খুব আকস্মিক ও জলদি হয়। পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে কোন বিশাল এলাকার মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায়। সেই মাটিতে আর কোন ফসল ফলানো সম্ভব হয় না। বাতাসে গ্রীন হাউজ গ্যাস নির্গমন আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায় ফলে খুব দ্রুত হারে উষ্ণায়ন হয়। এর ফলে গত দু’দশকে মূলত দক্ষিণ এশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার উষ্ণতার তীব্রতা বেড়েছে। আর আগের চেয়ে অনেক ঘন ঘন হচ্ছে এই খরা।
২০১২ সালে উত্তর আমেরিকার মধ্যাঞ্চলে শুধু হড়পা খরার জন্য আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল ৩৫৭০ কোটি ডলার। গবেষকরা দেখেছেন মূলত উষ্ণায়নের গতি বেড়ে যাওয়ার কারণেই খুব কম সময়ের ব্যবধানে বার বার হড়পা খরা হচ্ছে।

