আমাদের ভারত, ২ এপ্রিল:দিল্লির পর পাঞ্জাব। দেশের দুটি রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছে আম আদমি পার্টি। এবার তাদের লক্ষ্য গুজরাট। চলতি বছরেই সেখানে নির্বাচন। তাই পাঞ্জাবের নতুন মুখ্যমন্ত্রী ভাগবত মানকে সঙ্গে নিয়ে একেবারে গুজরাটে উপস্থিত আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। আর সফরের প্রথম দিনই তাদের দেখা গেল সবরমতী আশ্রমে গিয়ে চরকা কাটতে। অথচ এই চড়কা কাটার জন্য তিনি একদিন মোদীর সমালোচনায় মুখর হয়েছিলেন। এবার সেই কাজ নিজেই করলেন।
দুদিনের সফরে গুজরাটে গেছেন দিল্লি ও পাঞ্জাব এই মুখ্যমন্ত্রী। আর সফরের প্রথম দিনেই তাদের দেখা সবরমতীতে। এছাড়া দু’কিলোমিটার তিরঙ্গা যাত্রা ও নানা পরিকল্পনা ছিল। তবু সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে কেজরিওয়ালের চরকা কাটার ঘটনা নিয়েই। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী নিজের হাতে চরকা কাটার দৃশ্য ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে।
আশ্রমের ভিজিটার বুকে তিনি লিখেছেন,”এই আশ্রম একটি আধ্যাত্মিক স্থান। এখানে এলে মনে হয় এই গান্ধীজীর আত্মা এখানেই রয়েছেন। এখানে এলেই একটা আধ্যাত্মিক অনুভূতি হয়। গান্ধীজী যে দেশে জন্মেছি এই দেশে আমিও জন্মেছি সেকথা ভাবলে আমার নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয়।”
এর আগে এই আশ্রম এসে চরকা কাটতে দেখা গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। আর তাতে সমালোচনায় মুখর হয়েছিলেন কেজরিওয়াল। যদিও এবার আশ্রমে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন রাজনীতির কোনো আলোচনা করতে চান না। তবুও প্রশ্ন উঠেছে ডিসেম্বরের নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই কি গান্ধীজীর আবেগকে উস্কে দিলেন তিনি? সেই জন্যই কি সবরমতীতে আসা? সেই জন্যই কি চরকা কাটা?
অথচ ২০১৭ সালের ক্যালেন্ডারে গান্ধীর ছবি সরিয়ে মোদীর চরকা কাটার ছবি লাগানোর সময় কেজরিওয়াল প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি টুইটারে লিখেছিলেন গান্ধী হতে গেলে কয়েক জন্মের তপস্যা লাগে। চরকা কাটার অভিনয় করলে কেউ গান্ধী হয়ে যায় না বরং উপহাসের পাত্র হতে হয়। সেই সময়ে এই কথা লিখলেও এবার তাকেই চরকা কাটা ছবি তুলতে দেখা গেল। আর এই ঘটনা নতুন করে মানুষকে মনে করিয়ে দিলো ভোলবদলের রাজনীতির কথা।

