আমাদের ভারত, ৪ জানুয়ারি: “শিক্ষার অধিকার আইন লাগু হওয়ার পর ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের শিক্ষা দেওয়া সরকারের অবশ্য কর্তব্যের একটি। কিন্তু দেখুন করোনাকালে ঘুর পথে এই আইনটিরই শ্বাস রুদ্ধ হচ্ছে গত দুবছর ধরে। স্কুল বন্ধ, ছেলেমেয়েরা ভুলতে বসেছে অক্ষর। ছেলেরা শিশু শ্রমিক হয়ে যাচ্ছে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলায়।“
এই মন্তব্য করলেন ‘উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’-এর রাজ্য সভাপতি সন্দীপ ঘোষ। করোনার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “এই পরিস্থিতিতে পানশালা, শপিংমল, রেস্টুরেন্টেগুলো তো বন্ধ নেই। সংগঠিত সেক্টরগুলোর অর্থনীতির সাথে সম্পর্ক যুক্ত বলে? অথচ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ।
করোনার সংক্রমণ ছড়ানোর বিষয়টির জন্য শুধুমাত্র লেকটাউনে বা পার্ক স্ট্রিটে উৎসব আনন্দের দিনের জনসমাগমকে কি আমরা দায়ী করতে পারি? মোটা দাগে বিচার করতে চাইলে হয়তো পারি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে তো এটি ছড়াচ্ছে। প্রথম শোনা গেছে মালদায়। এর পর মারা গেছেন পুরুলিয়ার স্বাস্থ্য আধিকারিক। এই করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন আসছে বিদেশ থেকে। কী করে সেখান থেকে আসে? কোনো পরিযায়ী শ্রমিক তো আর আনেনি। এমনটাতো নয় যে আগাম খবর ছিল না। যদিও সেটা ঠিক কী সেটা এখন স্পষ্ট নয়। তবু এল এবং সংক্রমণ ছড়াচ্ছে হু হু করে।
এই যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে ভোট হল, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভোটের প্রচার হল হৈ হৈ করে, তখন প্রশ্নগুলো আসেনি কিন্তু। তখন প্রশ্নগুলো না আসার রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা ছিল। আসলে যত দিন যাচ্ছে ততই মনে হচ্ছে এই করোনাকে কেন্দ্র করে আমাদের মতো অতি সাধারণ মানুষগুলোর সাথে পুতুল নাচের ইতিকথা রচিত হয়েছে ও হচ্ছে। যার নিয়ন্ত্রকরা সারা বিশ্বজুড়ে বসে আছে।
কোথায় ‘কন্যাশ্রী’, ‘বেটি পড়াও, বেটি বাঁচাও’? কলেজস্ট্রিট, বইপাড়া ধুঁকছে। এক অসুস্থ যুক্তিহীন, রুদ্ধবাক-সর্বস্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ার প্রস্তুতি কি নয় এটি? দু’চারটি অনুদান দিয়ে কি এই চরম ক্ষতি রোখা যাবে? কী উত্তর দেবো ভবিষ্যৎকে? নিজেদেরকে? ভাবতে অনুরোধ করব সব রাজনৈতিক দলের সর্বাধিনায়কদের।“

