আমাদের ভারত, ২১ মে: আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসকের খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এবার থেকে সিবিআই- এর পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তার নেতৃত্বে চলবে আর জি কর মামলার তদন্ত। এর জন্য তিন সদস্যের সিট গঠন করা হয়েছে।
এছাড়া এই মামলায় বড় নির্দেশও দিয়েছে হাইকোর্ট। আর জি কর- এ সেই অভিশপ্ত রাতের রহস্যভেদ করতে এবার ঐ দিনের ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ টাইমলাইন জানাতে সিবিআইকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। বিচারপতির নির্দেশ, ঘটনার রাতে তরুণী চিকিৎসকের সহকর্মীদের সঙ্গে খাবার খাওয়ার সময় থেকে নির্যাতিতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত মাঝের সময় ঠিক কী কী ঘটেছিল, এবং কারা কারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তার সম্পূর্ণ ও অখণ্ড ঘটনাক্রম সিবিআইকে নতুন করে এবং নির্দিষ্টভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। সত্য উদঘাটনের স্বার্থে এবং এই বৃহৎ ষড়যন্ত্রের গোড়ায় পৌঁছাতে মামলার যে কোনো প্রয়োজনীয় সুদূর প্রসারিত দিক খতিয়ে দেখার জন্য সিবিআইকে পূর্ণ স্বাধীনতা ও ক্ষমতা দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
কেবল নতুন নির্দেশ নয়, এই দিন শুনানিতে সিবিআইকে বিগত দিনের তদন্তের স্লথ গতি নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে এক প্রকার ভর্ৎসনা করে আদালত। ক্ষুব্ধ বিচারপতির পরিষ্কার প্রশ্ন, গত বছরের ৭ অক্টোবর আদালতে ২৪ পাতার প্রাথমিক চার্জশিট দাখিল করার পর থেকে আজ পর্যন্ত পরবর্তী এই এক বছর সাত মাস ধরে আসলে কী তদন্ত করল সিবিআই? আদালতের এই ধারালো প্রশ্নের মুখে পড়ে অবশ্য পিছু হটতে হয়নি সিবিআইকে। তাদের আইনজীবীরা পাল্টা জবাবে আদালতকে আশ্বস্ত করে জানান, তদন্ত কিন্তু থমকে নেই। এই দীর্ঘ সময় ওই ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকা ৭০ থেকে ৮০ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বয়ান ও সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
কয়েকদিন আগেই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজশেখর মান্থা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আচমকা মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। ফলে বিষয়টি সরাসরি প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে চলে গিয়েছিল। এরপরই হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নির্দেশে আর জি কর মামলার শুনানির জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি বেঞ্চ গঠন করা হয়। বর্তমানে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলছে বিচারপতি শম্পা সরকার, বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে।

