আমাদের ভারত, ৭ অক্টোবর: দুর্গা পুজোর আয়োজনে রাজ্য সরকারের অর্থ সাহায্য পৌঁছতে চলেছে প্রায় ৫৭ হাজার পুজো কমিটির কাছে। কলকাতার প্রায় ২৭০০ পুজো কমিটির কাছে অর্থ সাহায্য পৌঁছাবে নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম পুজোর অনুদান। সারা রাজ্যের পুজো কমিটিগুলির কাছে পৌছে যেতে চলেছে বলে সূত্রের খবর।
তবে মুখ্যমন্ত্রী এবার আবেদন করেছিলেন যাদের প্রয়োজন নেই, তেমন পুজো কমিটিগুলি যেন সরকারের কাছে সাহায্য না নেয়। সেই হিসাব করলে দেখা যাবে প্রায় তিন হাজার পুজো এবার সরকারের অনুদান নিচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনের সাড়া দিয়েছে তারা। এরফলে সরকারের প্রায় ৩০ কোটি টাকা খরচ কমছে।
যদিও নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করেছিল এবছর পুজোর অনুদান দেওয়া বন্ধ হতে পারে, অর্থাৎ প্রথম দিকে অনিশ্চয়তা ছিল। পরে পুজো কমিটির উদ্যোক্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকেই তিনি বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান না নেওয়ার আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্য ছিল, বড় পুজোগুলি অনুদান না নিলে সেই অর্থে ছোট পুজো কমিটিগুলি উপকৃত হতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রীর সেই আবেদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতার একাধিক নামি পুজো কমিটি জানিয়ে দেয়, তারা সরকারি অনুদানের জন্য আবেদন করবেন না। সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, মুদিয়ালি ক্লাব, চেতলা অগ্রণী, ত্রিধারা সম্মিলনী, নাকতলা উদয়ন সংঘ, হাতিবাগান সার্বজনীন- এর মত একাধিক সার্বজনীন কমিটি এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
বেশ কয়েকটি পুজো কমিটি আবার অনুদান অন্য ভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অর্থাৎ রাজডাঙ্গা নব উদয় সংঘ জানিয়েছে, সরকারি অনুদান এলেও সেই পুরো এক লক্ষ টাকার অনুদান তারা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল দেবেন। নিউ আলিপুরের সুরুচি সংঘের তরফেও জানানো হয়েছে, উদ্বোধনের দিন মুখ্যমন্ত্রীর হাতে রিটার্ন গিফট হিসেবে এই অর্থ তুলে দেওয়া হবে।
তবে বড় পুজোর একাংশ অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে অনুদানের আবেদনের সংখ্যা নজর কাড়ার মতো। বক্তব্য, রাজ্য পুলিশের অধীনে থাকা প্রায় ৬০ হাজার পুজোর মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৫৭ হাজার আবেদন জমা পড়েছে।
দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে সরকারের অনুদান দেওয়ার কথা শুরু হয়েছে ২০১৮ সাল থেকে তৃণমূল সরকারের আমলে। সেই সময় অনুদানের পরিমাণ ছিল প্রথমে ১০ হাজার টাকা। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ২৫, ৫০, ৬০, ৭০, ৮৫ হাজার টাকা করা হয়। গত বছর অনুদানের অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় ১ লক্ষ ১০ হাজারে। এই বছর সেই অঙ্ক কমিয়ে প্রতি কমিটিকে এক লক্ষ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অনেক পুজো কমিটি জানিয়েছে, তারা সরকারি অনুদান নেবেন না, কারণ তারা মনে করেন সরকারি অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নাগরিক পরিষেবার ক্ষেত্রে ব্যয় করা দরকার। তা অনেক বেশি জরুরি।

