আমাদের ভারত, ৭ অক্টোবর: রাজ্য প্রশাসনের তরফে বড়সড় চমক দেওয়া হল। রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা পদে নিযুক্ত হলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা তথা রাজনৈতিক নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। শুধু উপদেষ্টা পদেই নয়, তাঁকে একেবারে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের কর্মী বর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের আই এ এস সেলের তরফে একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করে এই খবর জানানো হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অবিলম্বে এই নিয়োগ কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মিঠুন চক্রবর্তী ওই পদে বহাল থাকবেন। প্রশাসনিক মহলে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নির্দেশিকাটি সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক সোড়গোল পড়েছে।
চলতি বছরের মে মাসে রাজ্যে ক্ষমতায় পালা বদল ঘটেছে। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন স্তরে প্রশাসনিক রদবদল ও দায়িত্ব বন্টনের কাজ চলছে। সেই আবহে মিঠুন চক্রবর্তীকে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের নেপথ্যে মিঠুন চক্রবর্তীর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। বিজেপির হয়ে তিনি রাজ্যজুড়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছেন। তার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছেছিল বিজেপি। সেই অক্লান্ত পরিশ্রম এবং দলের প্রতি তাঁর আনুগত্যের অন্যতম স্বীকৃতি হিসেবে এই পদে তাঁকে আনা হয়েছে। তাঁকে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে সরকার বুঝিয়ে দিয়েছে প্রশাসনে তার গুরুত্ব ঠিক কতটা।
প্রশাসনিক মহল বলছে, রাজনৈতিক সমীকরণের বাইরে গিয়ে দেখলে, তথ্য ও সাংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা হিসেবে মিঠুনের নির্বাচন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলার পাশাপাশি দেশের বিনোদন জগতে তাঁর অবাধ বিচরণ। শিল্প ও সাংস্কৃতির জগতের সঙ্গে তাঁর নারীর টান। সংস্কৃতি দপ্তরের মতো একটি সংবেদনশীল বিভাগের দায়িত্বভার এমন একজনের হাতে তুলে দেওয়া হল, যার এই বিষয়ে প্রত্যক্ষ জ্ঞান রয়েছে। তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে আগামী দিনে সমৃদ্ধ করবে। চলচ্চিত্র শিল্প থেকে রাজ্যের লোকসংস্কৃতি, প্রতিটি ক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখাবেন তিনি।
অতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে রাজনৈতিক পথচলা শুরু করেছিলেন মিঠুন। পরে সেই পথ থেকে সরে আসেন তিনি। ইস্তফা দেন রাজ্যসভা থেকে। এরপর দীর্ঘদিন অন্তরালে ছিলেন। আবার ২০২১- এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে সরাসরি বিজেপিতে যোগদান করেন তিনি। বার্ধক্য জনিত শারীরিক অসুস্থতা এবং নানা প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করেও দলের প্রয়োজনে বারবার ছুটেছেন রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। কখনো জনসভা, কখনো রোড শো, সব জায়গাতেই তাঁর উপস্থিতি ছিল ব্যাপক হারে। সেই সময় থেকেই বঙ্গ বিজেপির অন্দরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবং সম্মান বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৬- এর নির্বাচনও তিনি ছিলেন বিজেপির অন্যতম তারকা প্রচারক।
শুভেন্দু সরকার তাঁকে অত্যন্ত সম্মানজনক একটি জায়গায় বসাবে সেই জল্পনা রাজনৈতিক মহলে আগে থেকেই ছিল। নবান্নেও প্রশাসনিক নির্দেশিকা কার্যত সেই জল্পনাতেই স্থায়ী সীলমোহর দিল। প্রশাসনিক আধিকারিকদের একাংশের মতে, ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদমর্যাদা পাওয়ায় মিঠুন চক্রবর্তী এখন সরকারের নীতি নির্ধারণে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারবেন। তাঁর পরামর্শ মেনেই আগামী দিনে রাজ্যে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর পরিচালিত হবে। সাধারণ মানুষের বিনোদন, সরকারি প্রকল্পের প্রচার ও বাংলার ঐতিহ্য রক্ষার মতো বিষয়গুলিতেও তিনি পদক্ষেপ করবেন। সেই দিকেই তাকিয়ে সকলে। নবান্নে একজন জনপ্রিয় অভিনেতার এই প্রশাসনিক উপস্থিতি দল এবং সরকারের ভাবমূর্তিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে শাসক শিবির। এখন সরকারি ভাবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের অপেক্ষায় সবাই।

