আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২১ জানুয়ারি:
বাম জমানা শেষ হয়েছে প্রায় এক দশক আগে, এখন রাজ্যে ক্ষমতায় তৃণমূল। অতীতে লাল দুর্গ নামে পরিচিত থাকলেও অস্ত্রের রাজনীতি সেভাবে কোনওদিনই দেখতে হয়নি গোয়ালতোড়ের নলবনা বড়ডাঙ্গা গ্রামকে। ছিল না মাওবাদীদের দাপাদাপি কিংবা ফার্মারদের অত্যাচার। একরকম সুখ আর শান্তিতেই দিন কাটছিলো বড়ডাঙার কবিতা, বিনোদ, বাবলু, স্বপনদের। তবে এক পড়ন্ত বিকেলের ঘটনা গ্রামের শান্তিকে বদলে দিয়েছে আতঙ্কে। এখন মাঝেমধ্যেই গ্রামে ভারী বুটের শব্দ। অচেনা মানুষ আর পুলিশ আধিকারিকদের যাতায়াত, সাংবাদিকদের ছোটাছুটি সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে বড়ডাঙার চিত্রটা।
বুধবার বিকেলে গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের নলবনা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বড়ডাঙা গ্রামে মাটি খুঁড়তে গিয়ে হঠাৎই হদিশ মেলে অস্ত্রভান্ডারের। মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় ৩৬ টি জংধরা বন্দুক আর প্রায় ৪৫০টি কার্তুজ। .৩১৫ ক্যালিবারের কার্তুজের প্যাকেটের ওপরে আবার রয়েছে অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরির ছাপ। অস্ত্র উদ্ধারের পর রীতিমতো দড়ি দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে ‘ইনসিডেন্ট স্পট’। রাখা হয়েছে পুলিশি প্রহরা। ব্যবস্থা করা হয়েছে হ্যালোজেন লাইটের। বৃহস্পতিবার দিনভর পরিদর্শন করেছেন জেলা ও রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন আধিকারিকরা। তবে শুক্রবার সকাল থেকে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মী ছাড়া আর সেভাবে কাউকে নজরে আসেনি। তবে আতঙ্ক কাটছে না গ্রামবাসীদের।

বাড়ির দাওয়ায় বসে বছর ৬২-র বিনোদ আহিরের দাবি, “এতকাল কাটল গ্রামে এ ধরনের ঘটনা কখনও ঘটেনি। গ্রামের পুলিশকেও আসতে হয়নি। এখন, থেকে থেকেই গ্রামে পুলিশ আসছে।” আতঙ্কের ছাপ গ্রামের প্রতিটি মানুষের মধ্যেই।
প্রসঙ্গত, গোয়ালতোড় থানার অন্তর্গত ছোট্ট এই গ্রামটি মূলত কৃষিপ্রধান এলাকা নামেই পরিচিত। শ’খানেক পরিবারের মধ্যে বেশির ভাগ পরিবারই লিপ্ত থাকেন চাষাবাদের কাজে। মাটি কুপিয়ে জমিতে ফসল ফলানোই যাঁদের কাজ তারা কস্মিনকালেও কল্পনা করতে পারেনি মাটির তলাতেই মিলবে এমন গুপ্তধনের হদিশ। এই গুপ্তধনের মালিক কে? তা জানতেই জোর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, দিনকয়েকের মধ্যেই এই এলাকায় নতুন করে খননকার্য করে দেখা হতে পারে মাটির নীচে আর কোনও বন্দুক পাওয়া যায় কি না।
যদিও এ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে চাইছেন না জেলার পুলিশ আধিকারিকরা। গুপ্তধনের মালিক যেই হোক না কেন তা নিয়ে অবশ্য বিশেষ মাথাব্যথা নেই গ্রামবাসীদের। আতঙ্ক কাটিয়ে গ্রামে শান্তি ফিরুক এটাই দাবি করছেন গ্রামের মানুষরা।

