দুই দফতরের টানাপোড়েনে থমকে সংস্কার, দুর্গাপুরে বেহাল বনফুল সরণি সারাইয়ের দাবিতে ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের অবরোধ

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১১ জানুয়ারি: রাস্তা তুমি কার? কে করবে বেহাল রাস্তা সারাইয়ের কাজ? দুই দফতরের টানাপোড়েন থমকে রয়েছে রাস্তা সংস্কারের কাজ। আর বেহাল রাস্তার জেরে নাকাল সাধারণ মানুষ। নিত্যদিন দুর্ঘটনায় নাজেহাল পথচলতি মানুষ। শেষ পর্যন্ত ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙল এলাকাবাসীর। রাস্তা সারাইয়ের দাবিতে অবরোধ করল ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। মঙ্গলবার ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল দুর্গাপুরের ২৯ নং ওয়ার্ডের বনফুল সরণিতে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে স্থানীয় কাউন্সিলার পৌঁছালে, তাকে ঘিরেও বিক্ষোভ শুরু করে ক্ষুব্ধ জনতা। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ ওঠে।

উল্লেখ্য, দুর্গাপুর পুরসভার ২৯ নং ওয়ার্ডের বনফুল সরণি। দুর্গাপুর ৯ নং রাজ্য সড়কের ফুড কর্পোরেশন মোড় থেকে গ্রাফাইট কারখানা পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলেমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। পিচের আস্তরণ উঠে পড়েছে। খানাখন্দে ভর্তি। কোথাও এক হাঁটু গর্ত। আবার কোথাও বড় বড় পাথর বেরিয়ে পড়েছে। ওই রাস্তার ওপর ৩-৪ টি কারখানা রয়েছে। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, ভারি যান চলাচলের ফলে রাস্তাটি ভেঙ্গে পড়েছে। আর ওই বেহাল রাস্তায় প্রায়দিনই দুর্ঘটনা ঘটে। বেহাল রাস্তার কারণে নাকাল সাধারণ মানুষ। নিত্যদিন দুর্ঘটনায় নাজেহাল পথচলতি মানুষ। মঙ্গলবার শেষ পর্যন্ত ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙে এলাকাবাসীর। রাস্তা সারাইয়ের দাবিতে অবরোধ করল ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।

অবরোধকারীরা জানান, “দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার হাল বেহাল। বর্ষায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে ওঠে। প্রায়দিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। সুষ্ঠভাবে চলাচল করা যায় না। তাই আজ বাধ্য হয়ে অবরোধে নেমেছি। কবে রাস্তা ঠিক হবে, তার লিখিত প্রতিশ্রুতি না পাওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে।”

এদিকে অবরোধের ফলে কারখানায় যাওয়া আসার লরি যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। যানজট সৃষ্টি হয়। ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় বনফুল সরণিতে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে স্থানীয় কাউন্সিলার তথা ৪ নং বোরো চেয়ারম্যান সুনীল চ্যাটার্জি পৌঁছায়। কাউন্সিলারকে ঘিরেও বিক্ষোভ শুরু করে ক্ষুব্ধ জনতা। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামে পুলিশ। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা ৪ নম্বর বোরো চেয়ারম্যান সুনীল চ্যাটার্জি জানান, “রাস্তার টেন্ডার খুব শীঘ্রই হবে। তার সমস্ত রকম প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।” প্রশ্ন, টোল আদায়ের পরও কেন সংস্কার হয় না? 

জানা গেছে, রাস্তাটি আসানসোল- দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের (এডিডিএ’র)। কিন্তু, ওই রাস্তার ওপর টোল আদায় করে দুর্গাপুর পুরসভা। আর তাতেই বিপত্তি। এডিডিএ’ র রাস্তায় পুরসভা টোল আদায় করায় সংস্কারের কাজ নিয়ে শুরু হয় চাপানউতোর।

এডিডিএর চেয়ারম্যান তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “এলাকাবাসীর বিক্ষোভ স্বাভাবিক। বহুবার পরিদর্শনে গেছি ওই রাস্তায়। অতীতে সংস্কারের উদ্যোগও নিয়েছি। নগরন্নয়ন দফতরে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু, ওই সময় নগরোন্নয়ন দফতর স্পষ্ট জানায়, যেহেতু পুরসভা টোল আদায় করে, সেহেতু ওই টোলের টাকায় রক্ষণাবেক্ষণের দায় তাদের।” 

এডিডিএ’র চেয়ারম্যান তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, “এখন আর বিতর্কে যাওয়ার অবকাশ নেই। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ডিপিআর তৈরী করা হয়েছে। সেটা অনুমোদনের জন্য নগরোন্নয়ন দফতরে পাঠানো হয়েছে। সেখানের অনুমোদন পাওয়ার পর খুব শীঘ্রই টেন্ডার করে কাজ শুরু করা হবে।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *