আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২১ জুন: শনিবার সন্ধ্যায় বাঁকুড়া ধর্মশালার রাধাভবনে আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ দিবস অনুষ্ঠানে পরিপূর্ণ সভাগৃহে আলোচকরা স্বাধীনতার প্রা্ক মুহূর্তে উগ্র পাকিস্তান প্রেমীদের কার্যকলাপ, লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান- এর মতো হুঙ্কারের ঘটনা তুলে ধরেন।
পশ্চিমবঙ্গ দিবসের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক বঙ্গীয় প্রাদেশিক হিন্দু মহাসভার সংগঠন সম্পাদক অনন্ত সিংহ রায় বলেন, প্রস্তাবিত দেশ ভাগের ফলে হিন্দু অধ্যুষিত বাংলা পাকিস্তানের অংশে চলে যায়। বাঙ্গালি হিন্দুর নিজস্ব হোমল্যান্ড বলে যে কিছুই থাকবে না সেই বিষয়ে নিশ্চিত হিন্দু মহাসভার নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেন, যে কোনও প্রকারে পাকিস্তানের কবল থেকে বাংলাকে রক্ষা করতে হবে। তারপর তৎকালীন হিন্দু মহাসভার নেতা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির নেতৃত্বে বাঙালি হিন্দুর নিজস্ব হোমল্যান্ড- এর দাবিতে বাংলা জুড়ে আন্দোলন শুরু হয়।
তারকেশ্বরে বসে হিন্দু মহাসভার অধিবেশন। সেই অধিবেশনে হিন্দু অধ্যুষিত বাংলা এলাকা নিয়ে পৃথক রাজ্য গঠনের প্রস্তাব পাশ হয়। আচার্য সুনীতি চট্টোপাধ্যায়, মেঘনাদ সাহা, যদুনাথ সরকার, সনৎ কুমার রায় চৌধুরী, সূর্য কুমার বোস সহ অন্যান্য হিন্দু মহাসভার নেতারা ছিলেন আন্দোলনের পুরোভাগে। হিন্দু মহাসভার দাবির যৌক্তিকতা মেনে নিয়ে তৎকালীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসও এই প্রস্তাবে সহমত প্রকাশ করে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভোটাভুটিতে বাংলা ভাগের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ওই ভোটাভুটিতে মুসলিম প্রতিনিধিদের সঙ্গে সঙ্গে জ্যোতি বসু-সহ বামপন্থী তিন সদস্য ও বাংলা ভাগের বিপক্ষে মত দেন। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের পক্ষে সন্দীপ মহাপাত্র বাংলা ভাগের লড়াইয়ে ও পশ্চিমবঙ্গ গঠনে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির অবদান ব্যাখা করেন।
হিন্দু মহাসভার জেলা কার্যকরী সভাপতি তথা হিন্দু বাণী পত্রিকার সম্পাদক সোমনাথ বরাট দেশভাগের পরিস্থিতি ব্যাখা করে বলেন, লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান শুধু নয়, বামপন্থীরা আওয়াজ তুলেছিল পাকিস্তানের দাবি নায্য দাবী। এতে পাকিস্তান পন্হীরা উৎসাহিত হয়ে প্রকাশ্যে শ্লোগান “দেয় হাত মে বিড়ি মুখ মে পান, লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান।” তিনি বলেন আজ রাজ্যজুড়ে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালিত হলেও হিন্দু মহাসভার অবদানের কথা তুলে ধরা হচ্ছে না। একথা অনস্বীকার্য সেই সময় ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির নেতৃত্বে হিন্দু মহাসভা আন্দোলন ও জনমত সংগঠিত না করলে বাংলার ও বাঙালি হিন্দুর কী পরিণতি হতো তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডাঃ সুভাষ সরকার, বাঁকুড়া সদর কেন্দ্রের বিধায়ক নিলাদ্রী দানা, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রান্ত কার্যকর্তা রনধীর মুখোপাধ্যায় বক্তব্য রাখেন। প্রদীপ প্রজ্বলন ও বঙ্গমাতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন পুলিশ সুপার।
অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে অখণ্ড বন্দে মাতরম সঙ্গীত পরিবেশন করেন বৃন্দাবন বরাট।

