জীবন্ত সাপ’কে ঘিরে বাড়ছে ধর্মীয় উন্মাদনা, শুরু হয়েছে মনসা পুজো, হাজার হাজার মানুষের ভিড় মালদার সকুল্লাপুরে

আমাদের ভারত, মালদা, ১৬ জানুয়ারি: মালদার গ্রামে জীবন্ত সাপকে ঘিরে শুরু হয়েছে মানুষের ধর্মীয় উন্মাদনা। প্রতিদিন নিয়ম করে আসছে সেই সাপ। এই জীবন্ত সাপকে মা মনসা দেবীর রূপ মনে করে এলাকার মানুষ শুরু করেছে মনসার পুজো। আশেপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রতিদিন জড়ো হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। দুধ, জল, আলতা, সিঁদুর দিয়ে পূজা করছে সেই জীবন্ত মা মনসাকে। 

কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকের বাঙ্গিটোলা অঞ্চলের
সকুল্লাপুর গ্রামে এই জীবন্ত সাপকে ঘিরে বাড়ছে হাজার হাজার মানুষের সমাগম। বাড়ছে ধর্মীয় উন্মাদনা। প্রস্তুতি শুরু হয়েছে নতুন মা মনসা মন্দির তৈরীর। স্থানীয় সকুল্লাপুর মা মনসা মন্দির কমিটির সদস্যরা জায়গাটি বাঁশ দিয়ে ঘিরে দিয়েছে। এলাকাটিতে বসানো হয়েছে লাল কাপড় ও সোলার সাপ। দূর দূরান্ত থেকে প্রতিদিন জীবন্ত সাপটিকে দেখতে আসছে মনসা ভক্তরা। ‌তারা আলতা, সিঁদুর, টাকা ও দুধ দিচ্ছে মা মনসাকে।

স্থানীয় মা মনসা মন্দির কমিটি এই সাপটিকে ঘিরে শুরু করেছে নিজস্ব ব্যবসা। কমিটির সদস্য সুদর্শন চৌধুরীর স্পষ্ট বক্তব্য সাপ পুজোকে কেন্দ্র করে যে টাকা উঠছে তা কারও ব্যক্তিগত নয়। প্রতিদিনের টাকা জমা হচ্ছে মা মনসা মন্দির কমিটিতে। সেই টাকা দিয়ে আমরা আগামী দিনে মনসার পুজো ও মনসা মন্দির তৈরি করবো।

স্থানীয় বাসিন্দা ও মনসা মন্দির পুজা কমিটির পূজারী বিষয় কর্মকার জানিয়েছেন, “বিগত এক সপ্তাহ ধরে এই সাপটি আমাদের গ্রামের সকুল্লাপুর বাস স্ট্যান্ডের পাশে একটি জায়গাতে আসছে। প্রতিদিন সকাল এগারোটার দিকে আসে এবং দুপুরের দিকে চলে যায়। সাপটি সাক্ষাৎ মা মনসা। গ্রামের ভিতরে যে মা মনসা মন্দির আছে সেখান থেকে এসেছে। প্রতিদিন গোটা কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লক থেকে হাজার হাজার মানুষ এসে এই সাপটিকে পুজো করে যাচ্ছে টাকা দিচ্ছে। আমরা সেই টাকা স্থানীয় মনসা মন্দির পুজো কমিটিতে রাখছি। এই টাকা দিয়ে আগামী দিনে মন্দির স্থাপন করা হবে।”

স্থানীয় মানুষের এই সাপটিকে ঘিরে ধর্মীয় ভাবাবেগে তৈরি হলেও করোনা আবহে এই সাপকে কেন্দ্র করে বাড়ছে ভিড়। সাধারণ মানুষের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ছড়াবার সম্ভাবনা বাড়ছে। স্থানীয় মানুষ সাপটিকে বনদপ্তরের হাতে তুলে দিতে না চাইলেও মালদা জেলার বিশিষ্ট সর্প বিশেষজ্ঞ নিতাই হালদার স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি এই সাপটিকে দেখেছেন। সাপটি সম্ভবত দোহোসলা বা গহূমা প্রজাতির। সাপটি বয়স্ক ও অসুস্থ। তাই খুব শীঘ্রই সাপটি বনদপ্তরের হাতে তুলে না দিলে এবং চিকিৎসা না হলে সাপটি মারা যেতে পারে।

বিজ্ঞান মঞ্চের সম্পাদক সুনীল দাস জানিয়েছেন, সাপটি অসুস্থ এবং বয়স্ক। সাপটি দুধ খায় না। সকলে সাপটিকে নিয়ে বুজরুকি শুরু করেছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কিছু দিনের মধ্যেই সর্প বিশেষজ্ঞ ও বনদপ্তরকে নিয়ে গ্রামে গিয়ে গ্রামবাসীদের বোঝাবো। সাপটিকে উদ্ধার করে বনদপ্তরের হাতে তুলে দেবো। আসলে করোনা আবহে মানুষের হাতে কাজ ও টাকা না থাকায় সাপকে ঘিরে পয়সা রোজগারের ধান্দা করেছিল মানুষ।

বনদপ্তরের কালিয়াচক জোনের রেঞ্জ অফিসার ইন্দ্রজিৎ মন্ডল জানিয়েছেন, সবার উপর বনদপ্তরের নজর রয়েছে। ওই গ্রামে আমাদের বনদপ্তরের কর্মীরা আছেন। যেহেতু সাপটিকে ঘিরে ধর্মীয় উন্মাদনার সৃষ্টি হয়েছে। তাই আমরাও চাইছি গ্রামবাসীদের বুঝিয়ে সাপটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার।

সর্প বিশেষজ্ঞ নিতাই হালদার ঘটনাস্থলে গেলে সাপটিকে উদ্ধার করতে বাধা দেন সাধারণ মানুষ। নিতাইবাবু গ্রামবাসীদের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *