Rashmi Group, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্নপূরণে আদিবাসী ছাত্রীর পাশে রশ্মি গ্রুপ

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর,
২৬ অক্টোবর: তৃণমূল স্তরে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR)-র এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো রশ্মি গ্রুপের একটি সংস্থা মেসার্স রশ্মি মেটালার্জিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি প্রাইভেট লিমিটেড। খড়্গপুরে এক মেধাবী আদিবাসী ছাত্রীর উচ্চশিক্ষার সহায়তায় তাঁকে একটি ল্যাপটপ প্রদান করেছে।

উপকৃত ছাত্রী পল্লবী মুড়ি, প্রবীর মুড়ির কন্যা। তিনি রশ্মি গ্রুপের খড়্গপুর কারখানার নিকটবর্তী আম্বা পশ্চিম (জগাই) গ্রামের বাসিন্দা। আর্থিকভাবে দুর্বল একটি তপশিলি উপজাতি (ST) পরিবারের সন্তান পল্লবী। তাঁর পরিবারের আর্থিক সংস্থান অত্যন্ত সীমিত।

আম্বা পশ্চিম গ্রামটি মূলত আদিবাসী অধ্যুষিত। আর্থিক অনটন এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ- সুবিধার অভাবে এই গ্রামের অধিকাংশ ছেলে- মেয়ে স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে উচ্চশিক্ষার পথে এগোতে পারে না। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও পল্লবী এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সমস্ত বাধা অতিক্রম করে তিনি কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্যপ্রযুক্তি (Information Technology) বিষয়ে বি.টেক (B.Tech) পাঠ্যক্রমে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। ভবিষ্যতে একজন সফল ইঞ্জিনিয়ার হওয়াই তাঁর লক্ষ্য।

পল্লবীর মেধা, অধ্যবসায় এবং আর্থিক প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে রশ্মি গ্রুপ তাঁর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয়। আজ খড়্গপুরে সংস্থার কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রশ্মি গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ভাস্কর চৌধুরী পল্লবীর হাতে ল্যাপটপটি তুলে দেন। অনুষ্ঠানে রশ্মি গ্রুপের অন্যান্য আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাস্কর চৌধুরী বলেন, “রশ্মি গ্রুপ বিশ্বাস করে, শিক্ষা একটি স্বনির্ভর সমাজ গড়ে তোলার মূল ভিত্তি। পল্লবী তাঁর গ্রামের অন্যান্য মেয়েদের কাছে এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত। প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামের একটি মেয়ে যখন ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখে, তখন সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সাহায্য করা আমাদের দায়িত্ব। পল্লবীর শিক্ষাজীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ যাত্রায় পাশে থাকতে পেরে আমরা গর্বিত। তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি। আমাদের পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলিতে শিক্ষার প্রসারে রশ্মি গ্রুপ আগামী দিনেও সহায়তা অব্যাহত রাখবে।”

প্রবীর মুড়ি এবং তাঁর কন্যা পল্লবী মুড়ি রশ্মি গ্রুপের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, “আমরা অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মানুষ। তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে পড়াশোনার জন্য একটি ল্যাপটপ কেনা আমাদের পক্ষে খুবই কঠিন ছিল। রশ্মি গ্রুপ শুধু একটি ল্যাপটপই দেয়নি, আমার মেয়ের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার পথও খুলে দিয়েছে। এই মহান সহায়তার জন্য আমরা ভাস্কর স্যার, নাথ স্যার, নটবর স্যার এবং রশ্মি গ্রুপের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।”

রশ্মি গ্রুপ তার পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলির সার্বিক উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে। বিশেষত শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং নারী ক্ষমতায়নের উপর সংস্থাটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

রশ্মি গ্রুপের অঙ্গীকার, “শিক্ষার প্রসার, সমাজের উন্নয়ন, সুন্দর আগামী নির্মাণ।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *