BJP, Birbhum, খেলার মাঠে পুজো নয়, জানিয়ে দিলেন বিধায়ক ধ্রুব সাহা

আমাদের ভারত, বীরভূম, ২৬ অক্টোবর: স্কুলের খেলার মাঠে পুজো কিংবা মেলা করা যাবে না, পরিস্কার জানিয়ে দিলেন বীরভূমের রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা। পুজো অন্য কোথাও করার পরামর্শ দিলেন তিনি। একই কথা পুজো কমিটিকে জানিয়ে দিয়েছেন রামপুরহাট হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নির্মল মণ্ডল।

প্রসঙ্গত, বীরভূমের রামপুরহাট হাই স্কুলের খেলার মাঠে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পুজো ও মেলা করে আসছিলেন জনৈক ব্যক্তি। কখনও প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের নামে কালী পুজো, আবার কখনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নামে মেলা চালিয়ে এসেছেন। এনিয়ে স্কুলের প্রাক্তনিরা আন্দোলন করেও রাজনৈতিক চাপে পিছিয়ে এসেছেন। এবার একই ভাবে ফের খেলার মাঠে পুজোর আয়োজন করতে শুরু করে ডাকবাংলা প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন নামে সংগঠন। সরকার পরিবর্তনের পর সোমবার ফের পুজো বন্ধের দাবিতে মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ হলেন রামপুরহাট হাই স্কুলের প্রাক্তনী এবং শহরের বিশিষ্টজনেরা। একই কপি জমা দেওয়া হয়েছে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নির্মল মণ্ডল, কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল, উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহাকে।

প্রধান শিক্ষক নির্মল মণ্ডল পরিস্কার জানিয়ে দেন, তিনি খেলার মাঠে পুজোর অনুমতি দেবেন না। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে খেলার মাঠ অব্যবহৃত অবস্থায় পরে রয়েছে। আমরা আগস্ট মাসে রাজ্য যুব ও ক্রীড়া দফতরের কাছে মাঠ সংস্কার করে খেলার উপযোগী করে তোলার আবেদন জানিয়েছি। সরকার আবেদনে সাড়া দিলে আমরা মাঠকে ছেলে- মেয়েদের উপযোগী করে তুলব।”

কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল বলেন, “খেলার মাঠ শুধুমাত্র খেলার জন্য ব্যবহৃত হবে। কোনো পুজো, মেলা বা বিনোদনের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। আমি বিষয়টি মহকুমা শাসককে দেখার জন্য অনুরোধ করব।”

এদিকে খবর পেয়ে এদিন বিকেলে পুজো কমিটি এবং রামপুরহাট হাই স্কুলের প্রাক্তনিদের নিয়ে বৈঠক ডেকে পরিস্কার জানিয়ে দেন খেলার মাঠে পুজো করা যাবে না। প্রয়োজনে অন্য জায়গা দেখতে হবে।”

হাই স্কুলের প্রাক্তনি অমিতাভ হালদার, শ্যামল হালদার, দীপক মুখোপাধ্যায়রা বলেন, “আমরা পুজো, মেলা, বিনোদনের বিরোধী নই। তবে খেলার মাঠ ধ্বংস করে করা যাবে না। খেলার মাঠকে ছেলেমেয়েদের খেলা এবং শরীরচর্চার উপযোগী করে তুলতে হবে।”

পুজো কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা আব্বাস হোসেন বলেন, “পনেরো বছর ধরে আমরা পুজো করে আসছি। কিন্তু এবার বাধা পেলাম। তবে বিধায়ক যেভাবে বলেছেন সেভাবে অন্যত্র পুজো করব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *