পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৮ অক্টোবর: খড়্গপুর পৌর এলাকার শারদোৎসবের আনন্দকে আরও দ্বিগুণ করতে এবং পুজো কমিটিগুলির সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করতে প্রদান করা হলো ঐতিহ্যবাহী ‘রশ্মি গ্রুপ শারদ সম্মান ২০২৬ (সিজন-২)’। বিশিষ্ট শিল্পসংস্থা রশ্মি গ্রুপের সিএসআর কর্মসূচির অধীনে এই বিশেষ পূজা পরিক্রমার আয়োজন করা হয়েছিল। মহাষষ্ঠীর পুণ্যলগ্নে চূড়ান্ত মূল্যায়নের পর মোট ছয়টি বিশেষ বিভাগে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় পুজো কমিটির হাতে পুজো মণ্ডপে গিয়ে।

উচ্চমানের বিচারকমণ্ডলী: এবারের সেরা পুজো কমিটিগুলি নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের একঝাঁক গুণী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। সম্মানীয় বিচারক প্যানেলে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. বি. সি. মেইকাপ (HAG): কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, আইআইটি খড়্গপুর। শ্রী প্রতাপ নারায়ণ পড়িয়া, প্রধান শিক্ষক, বরকোলা হাই স্কুল। শ্রী সঞ্জীব মিত্র, অধ্যক্ষ, ঝাড়গ্রাম আর্ট অ্যাকাডেমি। তুলি মিত্র, বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী।সৌম্যদীপ দাস: বিশিষ্ট শিল্পী। বিচারকমণ্ডলীর পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়নের পর ঘোষিত চূড়ান্ত বিজয়ী পুজো কমিটিগুলির নাম হল— সেরা পরিবেশবান্ধব: বিবেকানন্দ পল্লী পুজো কমিটি (মালঞ্চ)। পিপলস চয়েস- সেরা পুজো: সেন্ট্রাল মালঞ্চ দুর্গা পুজো কমিটি। সেরা মণ্ডপ: মথুরাকাটি সর্বজনীন দুর্গা পুজো কমিটি। সেরা থিম: এম.এস. টাইপ দুর্গা পুজো কমিটি (নিমপুরা রেলওয়ে কলোনি)। সেরা আলোকসজ্জা: তালবাগিচা সবুজ সংঘ ক্লাব।সেরা প্রতিমা: নিমপুরা দেওয়ানম্যারো সর্বজনীন দুর্গা পুজো কমিটি।
বিশিষ্ট বিচারকদের বক্তব্য: পুজো নির্বাচনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে প্রধান বিচারক আইআইটি খড়্গপুরের প্রফেসর ড. বি. সি. মেইকাপ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “খড়্গপুর অঞ্চলের পুজো কমিটিগুলির সৃজনশীলতা সত্যি প্রশংসনীয়। বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব পুজো এবং সামাজিক থিমগুলির উপর যে জোর দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক। রশ্মি গ্রুপের এই উদ্যোগ পুজো কমিটিগুলিকে আগামী দিনে আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।”

অন্যতম বিচারক ঝাড়গ্রাম আর্ট একাডেমির অধ্যক্ষ শ্রী সঞ্জীব মিত্র মণ্ডপ ও প্রতিমার শৈল্পিক নান্দনিকতার প্রশংসা করে বলেন, “শিল্পের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে খড়্গপুরের পুজো কমিটিগুলি অত্যন্ত উচ্চমানের কাজ করেছে। রঙের ব্যবহার, মাটির কাজ এবং আলোর সুক্ষ্ম কারুকার্য এককথায় অনবদ্য। লুকিয়ে থাকা শিল্পীদের শিল্পকলা ও মেধা মূল্যায়নের এই অভাবনীয় প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেওয়ার জন্য রশ্মি গ্রুপকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ।”
বরকোলা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্রী প্রতাপ নারায়ণ পড়িয়া তাঁর শুভেচ্ছা বার্তায় জানান, “একটি উৎসবকে ঘিরে শিল্প ও সংস্কৃতির এই যে বিপুল বিকাশ, তা সত্যিই অতুলনীয়। পুজো মণ্ডপগুলিতে যেভাবে প্লাস্টিক বর্জন ও সবুজায়নের বার্তা তুলে ধরা হয়েছে, তা সমাজ গঠনে বড় ভূমিকা নেবে। রশ্মি গ্রুপ তাদের সিএসআর- এর মাধ্যমে এই শিল্পীদের সম্মানিত করে অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ করেছে।”
রশ্মি গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শ্রী ভাস্কর চৌধুরীর বক্তব্য: অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে রশ্মি গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শ্রী ভাস্কর চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে জানান, “প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন আমরা মানুষের জীবনের সুখ-দুঃখ এবং সংস্কৃতির অংশ হতে পারি। শারদোৎসব বাংলার সংস্কৃতির প্রাণ। আমাদের এই সিএসআর উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো পুজো কমিটিগুলির অসামান্য সৃজনশীলতাকে সম্মান জানানো এবং উৎসবের আনন্দকে প্রতিটি এলাকায় পৌঁছে দেওয়া। বিজয়ী কমিটিগুলির মণ্ডপে গিয়ে এই সম্মাননা তুলে দিতে পেরে আমরা অত্যন্ত গর্বিত এবং আনন্দিত।”
উপস্থিত উচ্চপদস্থ আধিকারিকবৃন্দ ও মণ্ডপে মণ্ডপে সম্মান প্রদান: কোনো কেন্দ্রীয় মঞ্চে ডেকে প্রথাগত পুরস্কার দেওয়ার চেনা ছক ভেঙে এ বছর এক অভিনব ও চমৎকার উদ্যোগ নেয় সংস্থা। পুরস্কার ঘোষণার পর রশ্মি গ্রুপের শীর্ষস্তরের একটি প্রতিনিধি দল সরাসরি প্রতিটি বিজয়ী পুজো কমিটির মণ্ডপে উপস্থিত হন। এই পুরস্কার বিতরণী কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রশ্মি গ্রুপের উচ্চপদস্থ আধিকারিকবৃন্দ, যাঁদের মধ্যে অন্যতম— জিএম লিগ্যাল তপন নাথ, ডিজিএম সিএসআর নটবর বিসওয়াল, এজিএম ডেসপ্যাচ তাপস দাস, এজিএম মেকানিক্যাল সঞ্জয় ওঝা এবং ম্যানেজার এইচআর অনিমেষ ভুঁইঞা। উক্ত আধিকারিকদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে পুজো কমিটির কর্মকর্তা ও সদস্যদের হাতে সরাসরি পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। সংস্থার এই সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির মাধ্যমে বিজয়ী প্রতিটি পুজো কমিটিকে একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও জমকালো স্মারক এবং ১৫,০০০ টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে। বিজয়ী পুজো কমিটিগুলির কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ:সরাসরি মণ্ডপে এসে এই সম্মাননা ও আর্থিক পুরস্কার দেওয়ায় রশ্মি গ্রুপকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছে বিজয়ী পুজো কমিটিগুলি।
সেন্ট্রাল মালঞ্চ দুর্গা পুজো কমিটির পক্ষে শ্রী ঋত্বিক সামন্ত এবং বিবেকানন্দ পল্লী পুজো কমিটির পক্ষে শ্রী ইন্দ্রনীল রায় ও শ্রী সম্রাট ঘোষ যৌথভাবে জানান, “আমরা সত্যিই আপ্লুত। সাধারণত পুরস্কার নিতে বড় কোনো মঞ্চে যেতে হয়, কিন্তু রশ্মি গ্রুপ সরাসরি আমাদের মণ্ডপে এসে যেভাবে উৎসবের দিন এই চমৎকার স্মারক ও ১৫ হাজার টাকার চেক তুলে দিলো, তা আমাদের ক্লাবের সদস্যদের পরিশ্রমকে সার্থক করে তুলেছে। রশ্মি গ্রুপের এই কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) উদ্যোগ পুজো কমিটিগুলির পাশে দাঁড়িয়ে যে অনন্য নজির তৈরি করলো, তার জন্য আমরা আমাদের ক্লাবের পক্ষ থেকে এবং আপামর এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে রশ্মি গ্রুপকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ও শারদ শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।”

