Vande Mataram, Rampurhat, রামপুরহাটে থিম “বন্দে মাতরম্” গানের স্বার্ধ শতবর্ষ

আমাদের ভারত, বীরভূম, ১৮ অক্টোবর: কখনও আর জি কর হাসপাতালে অভয়ার হত্যা, কখনও অপারেশন সিঁদুর, কখনও সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ, প্লাস্টিক বর্জনের মতো পরিবেশ বন্ধব থিম গড়ে রামপুরহাট মহকুমায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল কালিসাঁড়া- আমতলা সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। এবার তাদের থিম বন্দে মাতরম্ গানের স্বার্ধ শতবর্ষ। সেই কারণেই মহা পঞ্চমীর সন্ধ্যায় পুজোর উদ্বোধন করেন ঋষি বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পঞ্চম পুরুষ জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়।

রামপুরহাট পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আগে পুজো বলতে শিবতলা মন্দির। জনসংখ্যার অনুপাতে একমাত্র ওই পুজোয় সমাগম বেড়ে যেত। ফলে আমতলা পাড়ার বাসিন্দারা তেমন গুরুত্ব পেতেন না শিব মন্দিরে। সেই সময় মাইকের রেওয়াজ ছিল না। ফলে পুজোর নির্ঘণ্ট তেমন কানে আসত না। সেই কারণেই ২০১১ সালে এলাকার বাসিন্দা শিক্ষক তারকনাথ মণ্ডল, অর্জুন মণ্ডল, বিকাশ সাহা, মানব মণ্ডল, স্বপন মণ্ডল, প্রশান্ত দে, দেবরাজ মণ্ডলদের মতো যুবক পাড়ায় পুজো শুরু করেন। পাড়ার নাম কালিসাঁড়া, আর যেখানে পুজো শুরু হয়েছিল সেখানে সেই সময় আমের গাছ ছিল। সেই কারণে পুজো কমিটির নাম দেওয়া হয় কালিসাঁড়া- আমতলা সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি।

ধীরে ধীরে পুজোর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমিটির সদস্যদের থিমের ভাবনা বাড়তে থাকে। সেই ভাবনা থেকে প্লাস্টিক বর্জন করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল বাঁশের কেল্লা। রাজ্য সরকারের সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ শ্লোগানকে বাস্তব রূপ দেওয়া হয়েছিল থিমে। গতবছর ছিল অপারেশন সিঁদুর। যার উদ্বোধন করেছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তার আগের বছর আর জি কর- এ নিজের কর্মক্ষেত্রে নিহত অভয়ার কাল্পনিক ছবি ফুটিয়ে তুলেছিল তারা। এবার বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা বন্দে মাতরম্ গানের ১৫০ বছর পূর্তি। সেই কারণে বঙ্কিম চন্দ্রের বসত বাড়িকে থিম হিসাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রতিমাতে মা দুর্গার আগের কাল্পনিক রূপ, বর্তমানে সাবেকি রূপ এবং ভবিষ্যতে ভারত মাতার রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

এবার এই পুজো কমিটির সভাপতি রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা, সম্পাদক বিজেপির বীরভূম মহিলা মোর্চার জেলা সভানেত্রী রশ্মি দে। ধ্রুব সাহা বলেন, “আমাদের এবারের পুজো দেশ প্রেমের উৎসব। পুজো মানে শুধু আনন্দ নয়, ইতিহাসের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। সনাতনী সংস্কৃতির ঐতিহ্য ও ইতিহাসের মেলবন্ধন করা হয়েছে পুজোর মধ্যে দিয়ে।”

পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ তারকনাথ মণ্ডল বলেন, “উদ্বোধনের দিন আমরা মানুষকে বস্ত্র বিতরণ করেছি। এছাড়া আমাদের সাংস্কৃতিক মঞ্চে প্রতিদিন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রামপুরহাটে পুজো পরিক্রমা করতে গেলে আমাদের মণ্ডপে আসতেই হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *