স্বরূপ দত্ত, উত্তর, দিনাজপুর, ১৭ মে: একুশ বছর বয়সের একমাত্র মেয়ে হামাগুড়ি দিয়ে বাড়ির ভেতরেই চলাফেরা করে। দাঁড়াতে বা হাঁটতে চলতে পারেনা। হতদরিদ্র পরিবারের এই প্রতিবন্ধী মেয়েকে হুইল চেয়ার দিয়ে তাঁর জীবনে চলার পথ কিছুটা সুগম করে দেওয়ার চেষ্টা করলেন রায়গঞ্জের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক বিশিষ্ট শিল্পপতি কৃষ্ণ কল্যাণী। সোমবার বিধায়ক তাঁর নিজের কার্যালয়ে প্রতিবন্ধী মেয়ে চন্দ্রীমাকে দিলেন হুইল চেয়ার। এখন থেকে চন্দ্রীমা শুধু নিজের বাড়িতেই নয় আশপাশের এলাকায় এই হুইল চেয়ারে বসে ঘোরাফেরা করতে পারবে। তার জীবনে মুক্তির দুয়ার খুলে দিলেন বিজেপি বিধায়ক তথা বিশিষ্ট শিল্পপতি কৃষ্ণ কল্যানী। খুশী চন্দ্রিমা ও তাঁর বাবা মা। হুইল চেয়ার প্রদানের আবেগঘন মুহূর্তে নিজেদের চোখের জল আটকাতে পারলেন না অসহায় এই দম্পতি।

রায়গঞ্জ শহরের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বীরনগর এলাকার বাসিন্দা প্রবীর কুন্ডু আগে একটি অ্যালুমিনিয়াম ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন। সেখানে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুবছর ধরে টোটো চালিয়ে কোনওরকমে সংসার চালান। জন্মের পরেই শরীরে একটি টিউমার ছিল চন্দ্রিমার। গুরুতর অসুখে পড়ে তাদের একমাত্র মেয়ে চন্দ্রিমা। টিউমার অপারেশন করতে গিয়ে ভুল চিকিৎসার কারনে পঙ্গু হয়ে যায় সুস্থ সবলা মেয়েটি। আর সেই থেকেই বেঁচে রইলেও হামাগুড়ি দিয়ে চলাফেরা করতে হয় চন্দ্রিমাকে। পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাইরের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গৃহবন্দী হয়ে পড়ে সে।

মা শিউলি কুন্ডু ও বাবা প্রবীর কুন্ডুর মেয়ের এই চরম দুর্দশা দেখে নিজেদের হতাশা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি। হতদরিদ্র বাবা মা পারেনি মেয়ের কোনও ব্যবস্থা করতে। সংবাদ মাধ্যমে চন্দ্রিমার এই দুর্দশার কথা জানতে পেরে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন রায়গঞ্জের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী। সোমবার বিধায়ক তাঁর নিজের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে আসলেন চন্দ্রিমা ও তাঁর বাবা-মাকে। দিলেন চন্দ্রিমাকে নতুন হুইল চেয়ারে। হুইল চেয়ার পেয়ে খুশীতে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে চন্দ্রিমার মুখ। এখন থেকে সে আর বাড়ির ভেতরে হামাগুড়ি দিয়ে চলাফেরা করা নয়, হুইল চেয়ারে চেপে ঘুরে বেড়াতে পারবে বাড়ির বাইরে খোলা আকাশের নীচে। বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণীর এই দান তাঁদের চিরকৃতজ্ঞ করে রাখবে জানালেন চন্দ্রিমার বাবা ও মা।
কৃষ্ণ কল্যাণী বলেন, অসহায় এই মেয়েটির খবর জানতে পেরেই আজ তাঁদের ডেকে নিয়ে এসে একটি হুইল চেয়ার দিলাম। ভগবানের কাছে প্রার্থনা করছি চন্দ্রিমার ভবিষ্যৎ জীবন মঙ্গলময় হয়ে উঠুক।

