স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ৩ জানুয়ারি: রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণীর তৎপরতায় অবশেষে রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের স্বীকৃতি পেতে চলেছে রায়গঞ্জ ব্লকের বাহিন রাজবাড়ি। ইতিমধ্যেই কমিশন থেকে এবিষয়ে চিঠি এসে পৌঁছেছে বিধায়কের কাছে। কৃষ্ণবাবু বলেন, কমিশনের চিঠি পেয়েছি। ডিপিআর তৈরী করে পাঠানোর পরেই সংস্কারের কাজ শুরু করবে কমিশন। বিধায়কের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জেলার বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ বৃন্দাবন ঘোষ।

উল্লেখ্য, রায়গঞ্জ শহর থেকে প্রায় পনেরো কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বাহিন রাজবাড়ি। নাগর নদীর তীরে অবস্থিত এই রাজবাড়ি জেলার অন্যতম ঐতিহাসিক নিদর্শন। কিন্তু দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পরে থাকার ফলে নষ্ট হতে বসেছে রাজবাড়ির বিভিন্ন অংশ। খসে পড়েছে দেওয়াল, কার্নিশ। আগাছায় পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে গোটা এলাকা। অথচ একটা সময় আলো ঝলমলে হয়ে থাকতো গোটা রাজবাড়ি। শোনা যায় জমিদার ও তার পরিজনরা হাতির পিঠে চেপে জমিদারী এলাকা পরিদর্শন করতেন একটা সময়। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে জৌলুশ হারিয়েছে বাহিন রাজবাড়ি। রাজবাড়ির বংশধরেরা পেশাগত তাগিদে বাইরে চলে গিয়েছেন। দীর্ঘদিন পরিতক্ত্য অবস্থায় পড়ে থাকার ফলে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে জেলার অন্যতম ঐতিহাসিক নিদর্শনটি। আগাছায় ঢেকে গিয়েছে রাজবাড়ি চত্বর। হারিয়ে যেতে বসেছে বহু গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। তবে আজও জেলা ও জেলার বাইরে থেকে বহু মানুষ ঘুরতে আসেন এই রাজবাড়িতে। স্বাভাবিক ভাবেই রাজবাড়িকে হেরিটেজ সম্পত্তি হিসাবে ঘোষণার দাবি জোড়ালো হয়। এনিয়ে কমিশনের কাছে একাধিকবার আবেদন করেছিলেন জেলার বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ বৃন্দাবন ঘোষ। কিন্তু কাজ না হওয়ায় গত ডিসেম্বর মাসে রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণীকে চিঠি লিখে বিষয়টি জানান।

এই চিঠি পাওয়ার পরেই রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের কাছে চিঠি পাঠান কৃষ্ণবাবু। তিনি বলেন,
“বাহিন রাজবাড়িকে হেরিটেজ সম্পত্তি হিসাবে স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলাম কমিশনকে। সম্প্রতি এবিষয়ে কমিশনের চিঠি পেয়েছি। ডিপিআর তৈরী করে পাঠানোর পর কমিশন এই ঐতিহাসিক নিদর্শন সংস্কারের কাজ শুরু করবে।”
বিধায়কের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ বৃন্দাবন ঘোষ। তিনি জানিয়েছেন, “বিধায়কের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। বাহিন রাজবাড়ি কমিশনের আওতায় এলে মূল্যবান ঐতিহাসিক দলিল রক্ষা পাবে। তবে কাজ শুরু করতে হবে দ্রুত। না হলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস নষ্ট হয়ে যাবে।

