TMC, Birbhum, মোটর সাইকেলের মেকানিক থেকে সুবিশাল স্টেডিয়ামের মালিক, বীরভূমের তৃণমূল নেতা শেখ মহিমের উত্থান নিয়ে শুরু প্রশ্ন

আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ২০ মে: মোটর সাইকেলের মেকানিক থেকে সুবিশাল স্টেডিয়ামের মালিক। এক তৃণমূল নেতার এই উত্থান দেখে চক্ষু চড়ক গাছ অনেকের। এতদিন তৃণমূলের ভয়ে কেউ মুখ খোলেনি। সরকার পরিবর্তন হতেই শুরু হয়েছে কানাঘুষো।

বীরভূমের সদাইপুর থানার গুনসীমা গ্রামের ওই তৃণমূল নেতা নাম শেখ মহিম। তিনি আবার দুবরাজপুর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ। ওই তৃণমূল নেতার বাড়ির চৌহদ্দির মধ্যেই এম জি আর নামকরণে খেলার মাঠ, স্টেডিয়াম, বিলাসবহুল ঘর, সুইমিং পুল, স্কুল বানিয়ে ফেলেছে। কয়েক মাসের মধ্যে বিশাল সম্পত্তির আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বীরভূমের সদাইপুর থানার সাহাপুর পঞ্চায়েতের গুণসীমা গ্রামের তৃণমূল নেতা তথা দুবরাজপুর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ শেখ মহিমের রমরমা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

জানা গেছে, ক্ষমতার শীর্ষে থেকে কয়েক বছরের মধ্যে বাড়ির চৌহদ্দির মধ্যেই ঝাঁ চকচকে স্টেডিয়াম, কচিকাঁচাদের ২টি খেলার মাঠ, পুকুর, বাগান, সুইমিংপুল, শপিং মল থেকে শুরু করে না জানা অনেক কিছু করে ফেলেছেন তিনি। একসময় ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতন শুক্লাও ওই স্টেডিয়ামে প্রশিক্ষণ দিয়ে গিয়েছেন।

প্রশ্ন উঠতেই দুবরাজপুর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা এলাকার তৃণমূল নেতা শেখ মহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ১৯৯৬ সাল থেকে একটু একটু করে করেছি। আমার ইট ভাটার ব্যবসা, এম জি আর ঠিকাদার সংস্থা, তাছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছি। ছেলেবেলা থেকেই আমার খেলার শখ। খেলাকে আমি ভালোবাসি। সেই কারণে জীবনের সঞ্চিত অর্থ খেলার মাঠেই ব্যয় করেছি। এবং এখনো করছি।”

প্রশ্ন উঠেছে, স্কুলের খেলার মাঠের জায়গা দখল করে স্টেডিয়াম বানিয়েছেন তৃণমূল নেতা। জবাবে মোমিন বলেন, “স্কুলে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন আমি বরং কয়েক হাজার টাকা ব্যয় করে স্কুলের জায়গা কিনে দিয়েছি। স্কুলের কোনো জায়গা আমি দখল করিনি। অকারণে শত্রুরা কুৎসা রটাচ্ছে। ইলামবাজারে একটি ভাড়ার বাড়িতে শপিং মল করেছি। সেখান থেকেও আয় আসে।”

স্কুলের মাঠ সম্পর্কে তিনি বলেন, খেলাধূলার জন্য স্কুলকে কেন এলাকাবাসীর জন্য বাইরে দু-দুটো মাঠ ছেড়ে রেখেছি। দুবারের পঞ্চায়েত সমিতির জয়ী প্রার্থী হয়েও আমি দল থেকে কিছু ঘরে তুলিনি। এক সময় কয়লার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন? প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, নিন্দুকেরা অনেক কিছু বলবে। তাদের হাতে কোনো প্রমাণ থাকলে দিতে বলুন। ২০২১ সালে নির্বাচন পরবর্তী হিংসার ঘটনায় আপনার এলাকায় আপনার উস্কানিতেই নানা ঘটনা ঘটেছিল। এমনকি ধর্ষণকাণ্ড ঘটেছিল। এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সিবিআই তদন্ত হয়েছে। যারা ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তারা জেলে। আমি কোনরকম ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না, বা উস্কানি দিইনি। তদন্তে সিবিআই আমার নাম চার্জ সিট থেকে বাদ দিয়েছে। কিছু পেলে আমাকে ছাড়ত না। আমার স্টেডিয়ামে নামিদামি খেলোয়াড়রা খেলতে আসেন। খেলা করিয়েও দু’ পয়সা আয় হয়। ক্রিকেট, ফুটবল সব খেলাই আমার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। অনেক মন্ত্রী থেকে শুরু করে বড় বড় আমলারাও এই স্টেডিয়ামে খেলার সুবাদে এসেছেন। খেলার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।

তবে সিপিএম দলের বীরভূম জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য শীতল বাউরি জানান, বিজেপি এখন বলছে আমরা বহু আগেই এ কথা বলেছি। মহিমের স্টেডিয়াম তৈরিতে কোটি কোটি টাকা খরচ হয়েছে, সবাই জানে। ওইসব টাকা কোথা থেকে আসে তার প্রশ্ন উঠেছে এখন। তৃণমূল ও দুর্নীতি দুটি সমার্থক শব্দ। মহিম পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ ওটা সামান্য বিষয়। দু’নম্বরির আখড়া। দু’ নম্বরি চালাতে যে সমস্ত প্রলেপ লাগে মহিম সব রকম প্রলেপ সামনে এনেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *