শিল্প সম্মেলনের সুফল নিয়ে প্রশ্ন অনির্বানের, স্বাগত নেটানাগরিকদের

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ২১ এপ্রিল: “এই সরকার প্রতি বছর শিল্প সম্মেলন শেষে যে পরিমাণ বিনিয়োগের কথা (ভাঁওতা) বাংলার মানুষকে জানায়, বাস্তবে তার ১.২% লগ্নি আনতে সক্ষম হয়েছে!“

এই অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি নেতা তথা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অধিকর্তা ডঃ অনির্বান গঙ্গোপাধ্যায়। নেটানাগরিকদের একটা বড় অংশ সায় দিয়েছেন এই মন্তব্যে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ন’টায় এই পোস্টে লাইক, মন্তব্য ও শেয়ারের সংখ্যা হয়েছে ১ হাজার, ৮১ ও ২৪৭।

সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “এটা কি সত্যি? রাজ্য সরকারের আমলে ৫ টি বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলন-এর সাফল্যঃ ২০১৫ সালে বিনিয়োগ প্রস্তাব এবং বাস্তবায়নের আর্থিক পরিমাণ যথাক্রমে ২ লক্ষ ৪৩ হাজার ১০০ কোটি এবং ৯৮৩ কোটি টাকা। ২০১৬তে এই দুই পরিমাণ যথাক্রমে ২ লক্ষ ৫০ হাজার ২৫৩ কোটি এবং ৩ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। ২০১৭-তে যথাক্রমে ২ লক্ষ ৩৫ হাজার ২৯০ কোটি এবং ২ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা। ২০১৮-তে যথাক্রমে ২ লক্ষ ১৯ হাজার ৯২৫ কোটি এবং ৬ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। ২০১৯-এ যথাক্রমে ২ লক্ষ ৮৪ হাজার ২৮৮ কোটি এবং ২ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা।“

অয়ন চ্যাটার্জি লিখেছেন, “৫০০টাকার কোম্পানি বাংলায় ভালো চলছে, শিল্পের কি দরকার?“ রামানুজ দত্ত লিখেছেন, “সুস্থ মস্তিষ্কের কোনো শিল্পপতি বাংলাতে এক টাকাও বিনিয়োগ করবে না। কারণ বাংলায় এখন কাশ্মীর থেকেও ভয়াবহ পরিস্থিতি।“

লক্ষ্মণলাল তিওয়ারি লিখেছেন, “বিনিয়োগের নামে ভাওতাবাজি। সিন্ডিকেটরাজ না ওঠা পর্যন্ত এই রাজ্যে বিনিয়োগ সম্ভব নয়।“ দেবাশিস পাল লিখেছেন, “যে টুকু লগ্নি বাস্তবায়িত হচ্ছে তার সুফল কি বেকারত্ব কমাচ্ছে? যদি সুফল মানুষ পেয়ে থাকে তাহলে তো মাসে মাসে ৫০০ টাকা ভিক্ষার প্রয়োজন হয় না।“

তপন কুমার দাস লিখেছেন, “সরকারি পরিকাঠামো এবং প্রশাসনিক শাসন ব্যবস্থা উন্নত না হলে এ রাজ্যে কোনও বৃহৎ শিল্প গড়ে উঠবে না। এই রাজ্যে শিল্প জগতের শিরোমনি রতন টাটার পরিণতি আজও দেশেবিদেশে আলোচিত। সবশেষে বলি, সিন্ডিকেট রাজ ও কাটমানি কালচার বন্ধ না হলে কেউ এ রাজ্যে ভুলেও আসবে না। শিল্প মহলেরও নিজস্ব সোর্স আছে।“ অরুণ বালা লিখেছেন, “এই সরকারের সব কিছুতেই জালিয়াতি।“

অমলেশ পাত্র লিখেছেন, “একদম ঠিক বলেছেন স্যার। শিল্প বিরোধী মুখ কেবল মুখোশ হয়েই থাকবে। শিল্প উন্নয়নের মুখ কোনও দিন হতে পারবে না।“ দেবাশিস টাপু সাহা লিখেছেন, “এটা হিন্দিতে চুলের সম্মেলনে , গত দু’বছর ধরে আমি একটা ইন্ডাস্ট্রি করতে চেয়েছিলাম কিন্তু লোকাল দাদাগিরি ও বিএলআরও দাদাগিরি’র জন্যে আজও করে উঠতে পারিনি। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে মুখে — দিয়ে চলে যেতে চাই। এর থেকে ভালো ঝাড়খন্ড, ওড়িশা বা সিকিমে ইন্ডাস্ট্রি করব।“

সবুজ মাইতি লিখেছেন, “পশ্চিম বাংলায় দিদির নেতৃত্বে শুধুমাত্র খুন ধর্ষণ আর তোলাবাজির শিল্প ভালো চলছে আর চলতে পারে। বাকি সব শিল্পকে এইজন্য উনি আগেই তাড়িয়েছেন।“ সৌমেন ব্রহ্মচারী লিখেছেন, “হ্যাঁ সত্যি ভাইপোর বাড়ি দেখলেই বোঝা যায়।” প্রবীর ভট্টাচার্য লিখেছেন, “বিশ্ব বাংলা ধাপ্পা সম্মেলন“। বাগম্বর হাইত লিখেছেন, “এই সরকারের কাজ ভুরিভুরি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগনকে ধোঁকা দেওয়া।“

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *