শিকার উৎসবে বন্যপ্রাণ হত্যা রুখতে প্রচারাভিযান পুরুলিয়া বনবিভাগের

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১১ মে: ঝালদা রেঞ্জের পক্ষ থেকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে পদ যাত্রা হল খামার গ্রামে। আজ পুরুলিয়া বনবিভাগের উদ্যোগে ঝালদা রেঞ্জের ব্যবস্থাপনায় খামার, পাররি, দাতিয়া, ডাকাই সহ বিভিন্ন গ্রামে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের আবেদন জানিয়ে পদযাত্রা হয়। এছাড়া সচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত হয় খামার বিট কার্যালয়ে। উদ্দেশ্য বন্যপ্রাণী ও বন রক্ষা। কারণ আর কয়েকদিন পর বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষ্যে অযোধ্যা পাহাড়ে শিকার উৎসব হবে। উৎসবের সামিল হলেও মানুষ বন্য প্রাণীদের যেন শিকার না করে তাই অযোধ্যা পাহাড় লাগোয়া গ্রামগুলিতে চলছে সচেতনতার প্রচার।

চিরাচরিত রীতি মেনে পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ে শিকার উৎসবের প্রস্তুতি দেখা গিয়েছে।  এই প্রাচীন উৎস অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুই বছর বন্ধ থাকার পর। বিশ্ব মহামারীর কারণে ঐতিহ্যের ধারা থমকে গিয়েছিল। কয়েক দিন ধরে অবশ্য পুরুলিয়া বনবিভাগের পক্ষ থেকে বিস্তীর্ণ অযোধ্যা পাহাড় জুড়ে মাইকে করে সচেতনতা প্রচার চালানো হচ্ছে।

ফি বছর বুদ্ধ পূর্ণিমায় অযোধ্যাপাহাড়ে পালিত হয় আদিবাসী সাঁওতালদের শিকার উৎসব। বুদ্ধ পূর্ণিমার আগের দিন থেকেই এই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে সাঁওতাল শিকারিরা দলে দলে চলে আসেন অযোধ্যায়। স্থানীয় আদিবাসী নেতা তথা বন সুরক্ষা কমিটির পদাধিকারিক অখিল সিং সর্দার বলেন, ‘আমরা শিকার উৎসবে আনন্দ ও মনোরঞ্জনের জন্য বন্য প্রাণীকে হত্যা করার বিপক্ষে। এটা  প্রচার করে এসেছি। কিন্তু উৎসব পালনে কোথাও খামতি ছিল না। বহু প্রতীক্ষিত সেই উৎসব এবার হচ্ছে।” 

কথিত আছে অয্যোধ্যার শিকার উৎসবে যোগ না দিলে আদিবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ছেলেরা পুরুষ হয় না। পূর্ণিমার রাত থেকে পরের দিনের অনেকটা সময় অয্যোধ্যার অরণ্যে অরণ্যে ঘুরে থাকেন আদিবাসী সাঁওতালদের সব বয়সের পুরুষ। সারারাত অরণ্যে বিচরণ করার পর তারা জড়ো হন পাহাড়ের এক অংশে থাকা গড়থানে। সেখানে পুজো ও নৃত্যের পর সন্ধ্যে থেকে নিজেদের বাড়ি মুখো হন তাঁরা।শিকার উৎসবে মহিলারা যোগদান করেন না। তরুণ থেকে প্রৌঢ় নানা বয়সের পুরুষদের এবারও দেখা  যাবে পাহাড়ে। বনদফতর চাইছে শিকার ছাড়াই শিকার উৎসব পালন হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *