সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৮ মে: দলের সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরের অপেক্ষায় পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। স্বাগত জানিয়ে পুরুলিয়া শহর সেজেছে বড় বড় ব্যানার আর তৃণমূলের পতাকায়। জনসভা স্থল সাজানোর কাজ পরিদর্শনে পর্যায়ক্রমে যাচ্ছেন দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতারা। কর্মীদের মধ্যেও একটা উচ্ছ্বাস উদ্দীপনা দেখা গিয়েছে জেলার প্রস্তুতি সভায়। কোন্দল, দ্বন্দ্ব মতানৈক্য ভুলে নেতারা এক হয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন। নেতারা চান সেই ছবিই যেন দলের নেত্রীর কাছে পৌঁছায়।

পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক পার্থ প্রতিম ব্যানার্জি বলেন, “তাঁর জেলায় আসার অপেক্ষায় রয়েছে তৃণমূল পরিবার। পুরুলিয়ার সার্বিক উন্নয়নের জন্য তিনি আন্তরিক প্রচেষ্টার ত্রুটি রাখেননি। তবুও তাঁর আসা মানেই প্রত্যাশা শিখরে পৌঁছে যায়। এবারেও কিছু দিয়ে যাবেন। একই সঙ্গে তাঁর পরামর্শ ও নির্দেশ আমাদের চলার পথ আরও মসৃণ ও প্রশস্ত করবে। তার অপেক্ষায় রয়েছি আমরা।”

এই পরিস্থিতিতে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুদিনের পুরুলিয়া জেলা সফরে আসছেন। আজ পুরুলিয়া শহরের মানভূম ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউশন মাঠে এবং গড়ে তোলা অস্থায়ী হেলিপ্যাড পরীক্ষা নিরীক্ষা হল। পুরুলিয়া ১ নং ব্লকের শিমুলিয়ার ব্যাটারি ময়দানের জনসভাস্থল সংলগ্ন অস্থায়ী হেলিপ্যাডে ট্রায়াল ল্যান্ডিং করল বিশেষ কপ্টার। এদিনের এই ট্রায়াল ল্যান্ডিংকে ঘিরে জেলা পুলিশের পক্ষে ছিল বিশেষ তৎপরতা। সকাল থেকেই হেলিপ্যাড এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ সুপার ছাড়াও জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা সকাল থেকেই হেলিপ্যাডে এদিনের প্রক্রিয়ার তদারকি করেন। সভাস্থলে হাজির ছিলেন জেলা তৃণমূলের নেতারা। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা হেলিপ্যাডের পরিকাঠামো, সংলগ্ন সভাস্থলের পরিকাঠামো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুর দুটোয় পুরুলিয়া রবীন্দ্র ভবনে পর্যালোচনা বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের মন্ত্রী ও সচিব, আমলাদের সঙ্গে নিয়েই বৈঠকে জেলার চলমান প্রকল্প ও সুযোগ সুবিধার হাল জানতে চাইবেন তিনি। সেখানেই বসেই তিনি জেলা প্রশাসন ও জন প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ নির্দেশ দিতে পারেন বলে সম্ভাবনা রয়েছে।

