স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২৮ মে: তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ পৌরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৫ জুলাই। আর তার আগেই পুর কর্মচারীদের বিক্ষোভ আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠলো রায়গঞ্জ পৌরসভা চত্বর। তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি অনুমোদিত পশ্চিমবঙ্গ পুর কর্মচারী ফেডারেশনের ব্যানারে শনিবার সকাল থেকেই বেতন বৃদ্ধি, বকেয়া গ্রাচুইটি প্রদান সহ ১২ দফা দাবির ভিত্তিতে বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু করেন পুরসভার স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মীরা। এনিয়ে রীতিমতো উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরসভায়।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প রূপায়নে দিনরাত এক করে কাজ করে গিয়েছেন পুর কর্মীরা। কোভিড আবহে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে পরিষেবা দিয়ে গিয়েছেন তারা। অথচ পুর কর্তৃপক্ষ কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি পূরণে উদাসীন থেকেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংগঠনের প্রতিনিধি শম্ভু ঘোষ জানান, পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের গত ৫ বছরে বেতন একেবারেই নূন্যতম হারে বেড়েছে। যা বর্তমান দ্রব্য মূল্যবৃদ্ধির বাজারে অনভিপ্রেত। স্বল্প বেতনে দিনরাত তারা শ্রম দিয়ে চলেছেন। তাই বেতন বৃদ্ধি, বকেয়া গ্রাচুইটি প্রদান, স্বজন পোষন সহ ১২ দফা দাবিতে একাধিকবার পুরসভার চেয়ারম্যানের কাছে ডেপুটেশন পেশ করা হয়েছে। এমনকি সংগঠনগত ভাবে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব এ ব্যাপারে চেয়ারম্যানের কাছে আলোচনার মাধ্যমে দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু কথা রাখেনি পুর কর্তৃপক্ষ। এরই প্রতিবাদে জরুরি কিছু পরিষেবা বাদ দিয়ে পুর সভার সমস্ত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। এদিন পুর কর্মচারীরা যখন পুরসভার গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তখন পুর চেয়ারম্যান সন্দীপ বিশ্বাস অন্যান্য কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক করেন পুরসভা পরিচালিত একটি ভবনে। বৈঠক শেষে হেঁটেই চেয়ারম্যান সন্দীপ বিশ্বাস সহ অন্যান্য কাউন্সিলররা চলে আসেন পুরসভায়। ভেতরে ঢোকার সময় তাদের বাধার মুখে পড়তে হয়। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন পুর চেয়ারম্যান। এনিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পুর চেয়ারম্যান সন্দীপ বিশ্বাস বলেন, আজ পুরকর্মীরা যে আন্দোলন করছেন তা সম্পূর্ণ ভাবে অবৈধ। বোর্ড অফ কাউন্সিলর একে মান্যতা দিচ্ছে না। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে।

