মোদী নিরাপত্তা গাফিলতি ! পুলিশ বললেও বিশ্বাস করিনি প্রধানমন্ত্রী আসছেন, বিস্ফোরক মন্তব্য বিক্ষোভকারী কৃষক নেতার

আমাদের ভারত, ৬ জানুয়ারি: পাঞ্জাবে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা গাফিলতি অভিযোগের ঘটনায় তোলপাড় হয়েছে গোটা দেশ। যাত্রাপথে কৃষক বিক্ষোভের কারণে অবরোধের মুখোমুখি হয়ে একটি উড়ালপুলে কুড়ি মিনিট থেমে ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কনভয়। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার কারণেই কর্মসূচি বাতিল করে ভাটিণ্ডা বিমানবন্দরে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী। আজ সেই আন্দোলনকারীদের তরফ থেকে এক নতুন দাবি সামনে উঠে এলো। তারা জানিয়েছেন পুলিশ তাদের প্রধানমন্ত্রী আসার কথা জানালেও তাতে তারা বিশ্বাস করেননি।

ভারত কিষান ইউনিয়নের প্রধান সুরজিত সিং ফুল বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, ফিরোজপুরে সিনিয়র পুলিশ সুপার তাদেরকে প্রধানমন্ত্রী আসছেন বলে আন্দোলনস্থান খালি করার কথা জানিয়েছিলেন এবং রাস্তায় অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তারা তখন ভেবেছিলেন অবরোধ তুলে দেওয়ার জন্যই পুলিশ মিথ্যে বলছে। তাই তারা সেই কথা শোনেননি।

কিন্তু এই দাবির সামনে আসতেই নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী যাত্রাপথে অবরোধের ঘটনায় বিরোধীদের দাবি ছিল পাঞ্জাবের কৃষকরা রাস্তায় বসে প্রধানমন্ত্রীকে ফিরে যেতে বাধ্য করেছেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার কৃষক নেতার মন্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে আদৌ কি প্রধানমন্ত্রী সফর সম্পর্কে অবগত ছিলেন তারা? সাংবাদিকদের সংগঠনের নেতা সুরজিত সিং ফুল জানান, “ফিরোজপুর এর এসএসপি আমাদের রাস্তা খালি করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন এই রাস্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী যাবেন। আমরা ভেবেছিলাম তিনি হয়তো মিথ্যে কথা বলছেন।” গতকাল বিশেষ বিমানে ভাটিণ্ডা নামেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে হুশেনওয়ালিতে যাওয়ার কথা থাকলেও খারাপ আবহাওয়ার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। ফলে সড়ক পথেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু যাত্রাপথে তার কনভৎ যখন একটি উড়ালপুলে পৌঁছায় তখন দেখা যায় সেখানে বেশ কিছু বিক্ষোভকারী অবরোধ করেছেন। প্রায় কুড়ি মিনিট অপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী কনভয়। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কারণে সেখান থেকে তাকে ফিরিয়ে আনেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা আধিকারিকরা।

এই ঘটনার পরই বিজেপির তরফ এ দাবি করা হয় প্রধানমন্ত্রী ক্ষতি করার উদ্দেশ্য নিয়েই ইচ্ছাকৃত এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মতো হাইপ্রোফাইল ব্যক্তির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার জন্য পাঞ্জাব প্রশাসন ও পুলিশকে দায়ী করে বিজেপি।

পাল্টা জবাব দিতে নেমে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যেখানে বিক্ষোভকারীরা বসেছিলেন তাঁর অনেক আগেই প্রধানমন্ত্রী কনভয় থামিয়ে দেওয়া হয়। কোনও ধরনের বিক্ষোভ তুলতে গেলে অন্তত ১০ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে। সেই কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছিল। অন্য রাস্তা দিয়ে তাকে গন্তব্যে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কার কোন ঘটনা সেখানে ঘটেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *