আমাদের ভারত, ৮ সেপ্টেম্বর: কলকাতার সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে যেটা জড়িয়ে আছে সেটা হলো কলকাতার খাবার। কেউ পছন্দ করেন মটন বিরিয়ানি, তো কেউ কাবাব। পার্কস্ট্রিটের কাঠিরোল থেকে কলকাতার হরেক রকম মিষ্টি। শহরের যে প্রান্তেই যান না কেন, লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে খাবারের দোকান চোখে পড়বেই। যারাই তিলোত্তমায় আসেন তাদের কাছেও কলকাতার খাবার অন্যতম আকর্ষণ। কিন্তু এইসব খাবার প্রস্তুতকারী নামজাদা রেস্তোরাঁর রসুই ঘরের ছানবিন হতেই চোখ কপালে উঠেছে।
খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের কর্মীরা গত এক সপ্তাহ ধরে অভিযান চালিয়ে কোথাও তেমন কোনো সন্তোষজনক কিছুই পাননি। গোটা শহরের বেশিরভাগ দোকানে অব্যবস্থা ছবি ধরা পড়েছে। সঙ্গে বিপুল পরিমাণে পচা খাবার, ছত্রাকে ভরা সামগ্রী, পচা মাংসের ছড়াছড়ি। এমন ৪০টা রেস্তোরাঁ ও দোকানে আপাতত তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। স্থগিত করা হয়েছে তাদের লাইসেন্স।
পুজো দোড়গোড়ায়। বাঙালি প্ল্যান করতে শুরু করে দিয়েছে। সপ্তমীতে আর্সেলান, অষ্টমীতে গোলবাড়ি, নবমীতে বাইপাসের ধারে কোনো ভালো রেস্তোরাঁ, দশমীর দুপুরে পাক স্ট্রিটে কোথাও। বছরে তো একবারই পুজো আসে, তাই পকেটের কথা মাথায় রাখে না অনেকেই। কিন্তু মোটা টাকা দিয়ে মানুষ আসলে কী খাচ্ছে দিনের পর দিন? পুজোর আগেই তা সামনে আনতে অভিযান চলে। রিপন স্ট্রিটের করিমস, আর্সেলান, বাইপাসের নামকরা শিমলা বিরিয়ানি, কলকাতা পুরসভার নাকের ডগায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী নিজামস, গড়িয়ার বেশ কিছু রেস্তারাঁ, বারাসতের একটি মলের ফুড প্লাজা, পার্ক স্ট্রিটের তুং ফং, মুগ্যাম্বো, ট্যাংরা বা চায়না টাউনের বিখ্যাত বিগ বস রেস্তোরাঁ, ডেকার্স লেনের কিছু দোকান সব জায়গাতেই পচা ছত্রাকে ভরা খাবার। কোথাও বিষাক্ত কেমিক্যাল, তো কোথাও খারাপ মাংস পাওয়া যায়। আর এসব কিছুর তালিকায় রয়েছে বেশ কিছু মিষ্টির দোকানও। সঙ্গে রয়েছে কলকাতার বিখ্যাত পনির পট্টি। এইসব জায়গা থেকেও খারাপ ও নিম্নমানের সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে।
পুরসভার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ১৭০টি রেস্তোরাঁয় তল্লাশি চালানো হয়েছে। যার মধ্যে আপাতত স্থগিত করা হয়েছে ৪০টির লাইসেন্স। তালিকায় রয়েছে রিপন স্ট্রিটের করিমস, ধর্মতলার নিজামস, সিমলা বিরিয়ানি। এই কয়েকদিনে নষ্ট করা হয়েছে প্রায় দেড় টন খাবার। আধিকারিকরা বলেছেন, অভিযান চালাতে গিয়ে মূলত যেটা চোখে পড়েছে তা হলো যেখানে রান্না হচ্ছে সেখানকার পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর, খাবার স্টোর করার জায়গা খুব খারাপ। পরিছন্নতা বিন্দুমাত্র নেই, স্বাস্থ্যবিধি মানে হচ্ছে না। বেশিরভাগ জায়গায় যে তেল মাত্র তিনবার রান্না করার কথা তাতে রান্না হচ্ছে কয়েকশো বার। ফলে সেই খাবার বিষে পরিণত হচ্ছে।
মানুষ সেই সব খাবার খেয়ে দিন দিন অসুস্থ হচ্ছেন। সূত্রে খবর, যাদের লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে তাদের ট্রেনিং দেওয়া হবে। তারপর আবার খাবার বিক্রি চালু করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। তবে এই বিষয়ে স্পষ্ট এখনো কিছু যারা যায়নি।

