আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৮ সেপ্টেম্বর: সোনামুখী ব্লকের দামোদর নদের চরে ফের একটি পুরনো মর্টার শেল উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এই মর্টার শেলটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালের হতে পারে বলে অনুমান বিশেষজ্ঞদের। সোনামুখি থানার পুলিশ সেনাবাহিনীকে বিষয়টি জানিয়েছে। নিরাপত্তা ও তদন্তের স্বার্থে ওই জায়গাটি ঘিরে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে যে, বন্যার জল সরতেই গতকাল সন্ধ্যায় দামোদরের চরে শেলটিকে পলিমাটির মধ্যে কিছুটা বেরিয়ে থাকতে দেখা যায়। সেই জায়গায় শেলটিকে আগে কখনও গ্রামবাসীদের নজরে আসেনি। এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই কৌতুহলিদের ভিড় জমে যায় দামোদরের চরে। খবর পেয়ে সোনামুখী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয় এবং মর্টার শেলটিকে ঘিরে রেখে সেনাবাহিনীকে খবর দেয়।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত মর্টার শেল উদ্ধারের ঘটনা বাঁকুড়ার এই এলাকায় নতুন নয়। দ্বারকেশ্বর, দামোদরে বিস্ফোরক ঠাসা এমন ধাতব বস্তু আগেও উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। কয়েক মাস আগে সোনামুখী থানার ডিহিপাড়া এলাকায় এমন তিনটি মর্টার শেল পাওয়া গিয়েছিল। সেনাবাহিনীর জওয়ানরা সেগুলি নিষ্ক্রিয় করে।
বাঁকুড়া খ্রিস্টান কলেজের এনসিসি-র দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক অরুণাভ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বাঁকুড়ার পিয়ারডোবা সংলগ্ন এলাকায় ব্রিটিশ ও মার্কিন বায়ুসেনার একটি ঘাঁটি ছিল। অবস্থানগত সুবিধার কারণে ওই ঘাঁটি থেকে জাপান- সহ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে হামলা চালানো হতো। সেই ঘাঁটিতেই মজুত থাকা কিছু অস্ত্রশস্ত্র পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জায়গায় ছিড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে মাটি বা বালির নীচে চাপা পড়ে যায়। বিভিন্ন সময়ে এই মর্টার শেল উদ্ধারের ঘটনা সেই ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে।

