আমাদের ভারত, ৭ সেপ্টেম্বর: রাজ্যের নতুন সরকার আসার পর এই বছরই প্রথম দুর্গা পুজো। আর প্রথম বছরই পুজো নিয়ে একাধিক বড় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে পুজো কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ে বৈঠকে জানালেন এবার আর রাজ্যে দুর্গাপুজোর কার্নিভাল হবে না। তবে পুজো কমিটি গুলিকে অনুদান রাজ্য সরকার দেবে।
একই সঙ্গে বড় পুজো কমিটি গুলোকে সেই অনুদান না নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। বাংলার দুর্গা পুজোকে ইউনেস্কোর তরফে হেরিটেজ মর্যাদা দেওয়ার পর আগের সরকার কার্নিভাল চালু করেছিল। বিজেপি সরকার তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। এর পরিবর্তে মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেনে হবে মেগা উদযাপন। ঐদিন রাজ্য সরকারের তরফ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হবে। পাশাপাশি মহাষ্টমীর দিন রাজ্যে মদ বিক্রি এবং বার বন্ধ রাখার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিগত সরকারের আমলে চালু হওয়া পুজো অনুদান প্রথা বজায় রাখছে বর্তমান সরকার। তবে অনুদানের অঙ্ক কিছুটা কমিয়ে ১ লক্ষ টাকা ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, এই অনুদান নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তিনি বলেন, এই টাকাটা না পেলে যারা পুজো করতে পারবেন না তাদের জন্য সরকার এক লক্ষ টাকা করে দেবে। বড় বাজেটের পুজো গুলিকে সরকারি সাহায্য না নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
পুজোর অনুদান পেতে গেলে সংশ্লিষ্ট থানায় আবেদন করতে হবে। পাশাপাশি পুজো মণ্ডপ গুলিতে বিদ্যুৎ মাসুল ১০০% মুকুব করা হয়েছে। সিইএসসি এবং রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন পর্ষদ উভয় ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য। ফায়ার ব্রিগেডে লাইসেন্সের জন্য কোনো ফি দিতে হবে না। পুজোর দিনগুলিতে শৃঙ্খলার উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজো ও বিসর্জন কোনো ক্ষেত্রেই ডিজে বক্স বাজানো যাবে না। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা পুজো এবং বিসর্জনে ডিজে বক্স বাজানো নিষিদ্ধ। এটা আমি করতে দেব না।
এছাড়া যানজট হয় এমন বড় রাস্তা আটকে পুজো করায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রেড রোড, স্ট্যান্ড রোড, প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড, লেনিন সরণী সহ কলকাতার ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবরুদ্ধ করে কোনো পুজো করা যাবে না।
মন্ডপ এবং প্রতিমার ক্ষেত্রে সনাতন ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক পরম্পরা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঐতিহ্যকে আঘাত করে এমন কোনো কাজ বরদাস্ত করা হবে না। এছাড়া পিতৃপক্ষ অর্থাৎ মহালয়ার আগে কোনভাবেই পুজো উদ্বোধন করা যাবে না।ভাসানের ক্ষেত্র সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে সরকার। আগামী ২৫ অক্টোবর কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। তাই ২৪ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত প্রতিমা নিরঞ্জন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইডেন গার্ডেনে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে দুর্গা পুজোর সূচনা হবে। সেখানে বিশাল ড্রোন শো, আতশবাজি পোড়ানোর ব্যবস্থা থাকবে।
এই দিনগুলিতে যে সমস্ত পুলিশ, দমকল, স্বাস্থ্য, পরিবহন কর্মী এবং সিভিক ভলান্টিয়ারা দিনরাত পরিষেবা দেবেন তাদের কথা মাথায় রেখে বিশেষ উপহার দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উৎসব শেষে এই জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা সবেতন দু’ দিনের অতিরিক্ত ছুটি পাবেন বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

