পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৭ সেপ্টেম্বর: রাজ্য সরকারের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে বড়সড় পরিবর্তন। ১০০০ টাকা নয়, এবার থেকে মাসে ১৫০০ টাকা করে বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং দিব্যাঙ্গ ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার থেকে সারা রাজ্যের সঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেও শুরু হয়েছে বর্ধিত হারে এই ভাতা প্রদানের প্রক্রিয়া। প্রশাসনের উদ্যোগে জেলার বিপুল সংখ্যক উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এবারে প্রায় ৫ লক্ষ ৩৭ হাজার উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের টাকা ট্রান্সফারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ১০০০ টাকা হারে ভাতা পেয়ে আসা উপভোক্তারা এবার ১৫০০ টাকা করে পেতে চলায় তাঁদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই খুশির আবহ তৈরি হয়েছে।

তবে এই ভাতা প্রদানের পাশাপাশি বিধবা ভাতা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও সামনে এসেছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি যে সমস্ত মহিলা একইসঙ্গে বিধবা ভাতা এবং অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পেয়ে আসছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এবার থেকে কেবল অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা দেওয়া হবে। ফলে সংশ্লিষ্ট মহিলাদের বিধবা ভাতা সারেন্ডার করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
এদিকে, ভাতা প্রাপকদের মধ্যে কারও অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছতে দেরি হলেও চিন্তার কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছে জেলা প্রশাসন। পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা জানিয়েছেন, একসঙ্গে সকলের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে না, পর্যায়ক্রমে একে একে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হবে। আগামী দিনগুলিতেও এ বিষয়ে আরও ক্যাম্প করা হবে। কোনও যোগ্য উপভোক্তা যদি এখনও টাকা না পেয়ে থাকেন, তাহলে বিষয়টি অনুসন্ধান করে দেখে তাঁদেরও ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রশাসনের এই উদ্যোগে উপকৃত উপভোক্তাদের মধ্যেও ব্যাপক সন্তোষ দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত ৫০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে মাসিক ভাতা ১৫০০ টাকা হওয়ায় বিশেষ করে প্রবীণ, বিধবা এবং দিব্যাঙ্গ মানুষদের আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি মিলবে বলে মনে করছেন তাঁরা। উপভোক্তারা সরকারের এই সিদ্ধান্তের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
এই কর্মসূচিকে ঘিরে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা, জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্রীমতী প্রতিভা রানী মাইতি, বিধায়ক প্রদীপ লোধা- সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা।
সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধিকে সাধারণ মানুষের জন্য রাজ্য সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে জেলা প্রশাসন। আগামী দিনে বঞ্চিত বা কোনও কারণে টাকা না-পাওয়া যোগ্য উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে তাঁদেরও এই সুবিধার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

