সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২০ মে: বেকারত্বের জ্বালা বুকে নিয়ে গ্রামাঞ্চলে করোনা মোকাবিলায় জনসচেতন করে চলেছেন পুরুলিয়ার যুবক সমীরণ পাণ্ডে। পুরুলিয়া ১ ব্লকের রুদড়া গ্রামের উচ্চ শিক্ষিত এই যুবকের এখন কাজই হয়ে দাঁড়িয়েছে সমাজকে সজাগ করে তোলা। যাতে সমাজের সব শ্রেণির মানুষ করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারেন। সকাল সকাল বাড়িতে কিছু মুখে দিয়েই গ্রামে গ্রামে কোভিড বিধি ও স্বাস্থ্য বিধির প্রচার করার জন্য বেড়িয়ে পড়েন। বাড়ির সবাই এই কাজে তাঁকে সহযোগিতা করেন।
গ্রামের হরি মন্দির, মোড়, হাটে থাকা মানুষের হাতে স্যানিটাইজার, কারও কারও মুখে মাস্ক পরিয়ে দিয়ে সবার উদ্দেশ্যে করোনা কালে আচরণ বিধি সম্পর্কে বোঝাচ্ছেন তিনি। সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে টিকা নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করছেন গ্রামবাসীকে। এছাড়া যে কোনও অসুখ, জ্বর বা অন্য উপসর্গ দেখা দিলে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার অনুরোধ রাখছেন। অযথা বাড়ির বাইরে না বেরনোর পাশাপাশি জমায়েত না করায় জন্য গ্রামবাসীদের বলছেন সমীরণ। এই মহামারী কালে এখনও এক শ্রেণির মানুষ সচেতন নন। আর এটাই দুশ্চিন্তা স্নাতকোত্তর সমীরণের।

ছাত্র জীবন থেকেই সমাজ গড়ার সংগ্রাম তাঁর। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দমে যাননি তিনি। বিএড শেষ করে যোগ্যতা অনুযায়ী অর্থ উপার্জনের একটা উপায় খুঁজছেন সমীরণ। যাতে সমাজের ভালো কিছু করতে গিয়ে আর্থিক সমস্যায় না পড়েন তিনি। পার্শ্ব শিক্ষক নিয়োগ হয়েও কয়েক মাস পর সিনিয়ার স্থায়ী শিক্ষকদের রাজনীতির শিকার হন তিনি। কার্যত এখন বেকার। তাতে কী? ইচ্ছে থাকলেই যে উপায় হয় তা প্রমাণ করছেন গ্রামীন এই সার্বিক শিক্ষার অধিকারী।
গ্রামের অসহায় মানুষকে কুসংস্কারের বলি হতে দেখেছেন। তার প্রতিবাদ করে সচেতন করার অভিযান এখনও সচল রয়েছে। বত্রিশ বছর বয়স। জীবনের নানা দিক উপলব্ধি করেছেন। মানুষের সেবাই পরম ধর্ম তাঁর সে ব্রত পালন করেন। কোভিড ১৯ রোগই শুধু নয় সমাজের মধ্যে থাকা সব রোগই উপড়ে ফেলতে চান সমীরণ।
তাঁর গ্রাম ছাড়াও পাশাপাশি বহু গ্রাম ও জনবসতিতে সুনাম রয়েছে। করোনার প্রথম পর্যায়েও সমাজ সচেনতামূলক কাজ করেছিলেন তিনি। এবারের পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর। তবু ঝুঁকি নিয়েই সকাল থেকে মাইক হাতে গ্রাম প্রান্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। তাঁর এই নিস্বার্থ আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা জনমুখে এখন।

