Deputation, Bankura, পশুপাখির হাট চালুর দাবি, বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন বাঁকুড়ায়

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৮ জুন: সরকারি নির্দেশে বন্ধ হওয়া পশুপাখি কেনা বেচার হাট পুন‍রায় চালুর দাবিতে ডেপুটেশন ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, বাংলার পশুপাখি কেনা বেচার হাটগুলি প্রাচীন কাল থেকে ঐতিহ্য বহন করে আসছে। রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই গত ১৩ মে থেকে রাজ্যের সেই ঐতিহ্যবাহী পশুপাখির হাটগুলি বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি হয়েছে। ফলে গ্রামীন মানুষজন ভীষণ অসুবিধায় পড়েছেন। এই হাটগুলি পুনরায় যাতে চালু করা যায় তার দাবি জানিয়ে বুধবার বাঁকুড়া জেলা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে ডেপুটেশন দিলো বাঁকুড়া জেলা পশুপক্ষী হাট বাঁচাও সমিতি।

সংগঠনের পক্ষে আব্দুল আলী খাঁন ও দিলীপ কুন্ডু বলেন, ভারতবর্ষে এই হাট চালু রয়েছে প্রাচীনকাল থেকে। সম্ভবত যখন মুদ্রার আবির্ভাব হয়নি তখন থেকে। বিনিময় প্রথার মাধ্যমে বেচাকেনা হতো। এখনও বহুক্ষেত্রে সেভাবেই বেচাকেনা হয়ে থাকে। এতে গ্রামীণ এলাকার বহু মানুষ উপকৃত হয়ে থাকেন। কিন্তু রাজ্যের নতুন সরকার ফরমান জারি করে হাট বন্ধ করে দিয়েছেন। আব্দুল আলী খান বলেন, পশুপাখি বেচাকেনা হাটে শুধু গরু মহিষ বেচাকেনা হয়ে থাকে তা নয়। এখানে হাঁস মুরগি থেকে ঝাঁটা ঝুড়ি, লাঙল, কোদাল, জামা- কাপড়, শাক- সবজি, মশলাপাতি সবকিছু পাওয়া যায়। এই হাট গুলিই গ্রামীণ অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে। হাট বন্ধ থাকার ফলে হাজার হাজার কর্মসংস্থান নষ্ট হয়েছে। এর ফল ভোগ করতে হচ্ছে গ্রামের গরিব মানুষকে।

সংগঠনের অন্যতম কর্মকর্তা দিলীপ কুন্ডু বলেন, সামনে বর্ষায় কৃষি কাজে নামবে মানুষ। সেই কারণে অনেকেই লাঙলের গরু কিনবে বা কেউ বিক্রি করে কমদামের কিম্বা কেউ আরও ভালো গরু বা মহিষ কিনবে। কারো দুটো ছাগল বা হাঁস মুরগি বিক্রি করে চাষের রসদ জোগাড় করবে। দিলীপবাবু বাঁকুড়ার শুনুক পাহাড়ি হাটের উদাহরণ দিয়ে বলেন, এই পশুহাট হলো জঙ্গলমহলের ফুসফুস। তিনি বলেন, যারা সরকারে বসেছেন সেখানে এখানের প্রতিনিধিও রয়েছেন। তিনি নিশ্চিত জানেন এই হাটে গরিব মানুষ জঙ্গল থেকে খেজুর সহ নানা ফলমূল এনে বিক্রি করে দুটো কাঁচা পয়সার মুখ দেখেন। সেই পয়সায় হয়তো পরনের কাপড় কিম্বা ওষুধ কিনতে পারবেন। সেসব বন্ধ হয়ে গেছে। দীলিপ বাবুদের দাবি অবিলম্বে পশুপক্ষী হাট গুলি যাতে চালু করা হয় তার জন্য সরকারি নির্দেশিকা প্রত্যাহার করা হোক। প্রয়োজনে হাটের নিয়মকানুন পরিমার্জন করে হাট চালু হোক। তাহলে গ্রামের মানুষের মুখে হাসি ফুটবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *