আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১৯ জুন: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চার জন্ম দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (বালু)। দলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য পদে মনোনীত হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। দলের কঠিন সময়ে তিনি যেমন নেত্রীর পাশে থেকেছেন, তেমনই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিধায়ক ও মন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন। এমনকি রেশন দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলে যাওয়ার পরও তাঁর প্রতি আস্থা হারাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিক সভা-মঞ্চ থেকে তিনি দাবি করেছিলেন, জ্যোতিপ্রিয়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে হাবড়ার সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে বলেছিলেন, “আমার মন্ত্রিসভায় বালু সবচেয়ে ভালো কাজ করেছে।” সেই আস্থার প্রতিফলন হিসেবেই গত সপ্তাহে তাঁকে দলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য করা হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলের মত। কিন্তু সপ্তাহ ঘুরতেই নাটকীয় মোড়। দলের নবনিযুক্ত পদ-সহ সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। ইতিমধ্যেই তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
তবে নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানিয়েছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার সুগার ৩৫০-এর উপরে। কিডনির সমস্যাও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দলের কাজের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা সম্ভব হচ্ছে না। সেই কারণেই সমস্ত পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যদিও তাঁর এই পদত্যাগকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।
তৃণমূলের দীর্ঘদিনের এক বিশ্বস্ত মুখের এমন সিদ্ধান্তকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের এই পদত্যাগ তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য কতটা বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়, তা সময়ই বলবে। তবে একথা স্পষ্ট যে, দলের প্রতিষ্ঠালগ্নের এক প্রবীণ নেতার সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানো রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

