আমাদের ভারত, ৫ জুলাই: বারুইপুরে বছর ১২ বছরের এক বালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘিরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। ঘটনায় স্থানীয়দের গণপিটুনিতে এক অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। সেখানে পরিস্থিতি ক্রমশই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এহেন অবস্থায় নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি পরিবারের সদস্যদের মঙ্গলবার ভবানীভবনে আসতে বলেন, তাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্ত দাবি শোনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
রবিবার বারুইপুরে একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় নাবালিকার দেহ। অভিযোগ শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল ঐ নাবালিকা। পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। দেহ উদ্ধারে খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। পুলিশে নাবালিকা নিখোঁজ বলে জানানোর পরেও উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ। কুলপি রোডে নির্যাতিতার মৃতদেহ রেখে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এই উত্তেজনার মধ্যেই ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন এক যুবককে ধরে বেধড়ক মারধর করতে থাকে ক্ষুব্ধ জনতা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। মৃতের নাম ইন্দ্রজিৎ তাঁতি, বয়স ২৬ বছর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নাবালিকার উপর নৃশংস অত্যাচারের ঘটনায় চার থেকে পাঁচ জন জড়িত ছিল। ইতিমধ্যে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই ৬ সদস্যের সিট গঠন করা হয়েছে। তাতে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মহাকুমা পুলিশ আধিকারিক, বারুইপুর থানার আইসি সহ অন্য আধিকারিকরা।
তবে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষুব্ধ জনতা সূর্যপুর পুলিশ ক্যাম্পে ভাঙ্গচুর চালায় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি শিয়ালদা দক্ষিণ শাখার নামখানা লাইনে রেল অবরোধ করেও বিক্ষোভ দেখানো হয়।
স্থানীয়দের এটা বড় অংশের অভিযোগ, পুলিশ সময় মত পদক্ষেপ করলে হয়তো নাবালিকার প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো। এই অভিযোগকে ঘিরে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
এরই মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় বলে প্রশাসন সূত্রে জানাগেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, নাবালিকাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনায় কারা জড়িত এবং গণপিটুনিতে অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনায় কারা দায়ী তা নিয়েও পৃথকভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের কথা অনুযায়ী শনিবার বিকেলে সে বাড়ি থেকে কিছু কিনতে বেরিয়েছিল। তারপর থেকেই তার খোঁজ মেলেনি। পরিবারের অভিযোগ, চারজন তাকে তুলে নিয়ে যায়। রবিবার সকালে বাড়ির অদূরে একটি পুকুরে নাবালিকার দেহ মেলে। তারপরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। দেহ ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয়রা। পথ অবরোধ ও রেল অবরোধ করা হয়।

