সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাকুঁড়া, ২৮ ডিসেম্বর: কৃষি ও কৃষক বাঁচানোর দাবি তুলে আজ বড়জোড়া মন্ডল বিজেপির পক্ষ থেকে বিডিওর কাছে ডেপুটেশন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। কৃষি বাঁচাও কৃষক বাঁচাও এই শ্লোগান তুলে মঙ্গলবারের এই বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার নব নিযুক্ত বিজেপি সভাপতি বিল্লেশ্বর সিং। বিজেপির মন্ডল সভাপতি সুভাষ মন্ডল, যুব মোর্চার জেলা সম্পাদক সোমনাথ কর, শ্রমিক নেতা গোবিন্দ ঘোষ, মহিলা মোর্চার সভানেত্রী সুপ্রীতি চ্যাটার্জি সহ অনেকে। এদিন বড়জোড়া দলীয় অফিস থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা পরিক্রমা করে বিডিও অফিসে হাজির হয়।
দলের বড়জোড়া মন্ডল সভাপতি সুভাষ মন্ডল বলেন, গোটা বড়জোড়া ব্লক এলাকায় কৃষকরা ভীষণ সমস্যায় ভুগছেন। কৃষকের যাতে অভাবি বিক্রি বন্ধ হয় সেই কারণে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প রয়েছে। কিন্তু রাজ্য সরকার লোক দেখানো ধান ক্রয় কেন্দ্র ঘোষণা করে দায় সারছে। কৃষকদের সেই ফড়েদের দ্বারস্থ হতেই হচ্ছে। আমরা হৈমন্তিক ফসল ওঠার আগে থেকেই দাবি করে আসছি প্রত্যেক পঞ্চায়েত এলাকায় অন্তত ১ টি করে ধান ক্রয় কেন্দ্র খোলা হোক। তাহলে কৃষক তাদের ফসলের ন্যায্য দাম পাবেন। কিন্তু সরকারি কেন্দ্রে দূরত্ব এবং ভোগান্তি সামলাতে হিমসিম কৃষকরা ফসল ফড়েদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
জেলা সভাপতি বিল্লেশ্বর সিংহ দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীর নাকি ১০০ % কাজ সেরে ফেলেছেন। তাহলে কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন কেন। দুয়ারে সরকার হলে দুয়ারে ধান কেনা হবে নাই বা কেন? কৃষক হলেন আমাদের অন্নদাতা। কিন্তু তাদের কথা ভাবা হচ্ছে না। কৃষক স্বার্থে বিদ্যুতের দাম কমাতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ এবং বিনা মূল্যে সার ও বীজ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আর তা না হলে বড়জোড়ায় আন্দোলন কাকে বলে তা দেখিয়ে দেব বলে হুংকার ছাড়েন বিজেপির নতুন সভাপতি বিল্লেশ্বর সিং। তিনি বলেন, এদিন আমরা ৮ দফা দাবিতে বিডিওর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। ১৫ দিনের মধ্যে সদর্থক পদক্ষেপ না নিলে আমরা ফের বিডিও অফিস ঘেরাও করে রাখব।
এ প্রসঙ্গে বিডিও সুরজিৎ পন্ডিত বলেন, ডেপুটেশনের স্মারকলিপি পেয়েছি। দাবিগুলি বিবেচনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেব।

