প্রতীকী লাশ বিছিয়ে মেধাতালিকা ভুক্ত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের অভিনব প্রতিবাদ

আমাদের ভারত, ২ ফেব্রুয়ারি: ধর্মতলায় গান্ধী মূর্তির পাদদেশে মর্মান্তিক দৃশ্য। সারি সারি সাদা থানে মোড়া লাশ। না না এটা সত্যি ঘটনা নয়। এটা এক অভিনব প্রতিবাদের ভাষা। প্রতীকী লাশ বিছিয়ে প্রতিবাদে সামিল নবম- দশম এবং একাদশ- দ্বাদশ স্তরের মেধাতালিকা ভুক্ত অথচ চাকরি থেকে বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীরা।

বেকারত্বের যন্ত্রণা বুকে নিয়ে অতনু মিস্ত্রি,বাবু দলুই এর মতো শিক্ষিত বেকাররা মৃত্যু বরণ করে ইহজগৎ ছেড়ে চলে যাওয়া যুবকদের প্রতি প্রতীকী শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে এই যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চের ব্যানারে পরিচালিত ধর্ণা মঞ্চে। ধর্ণারত বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীরা বলেছেন , তারা তাদের ন্যায্য চাকরি ফিরে না পেলে হয়তো এই প্রতীকী লাশ বাস্তবে পরিণত হবে।

ধর্ণারত বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীগণ রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন অতনু মিস্ত্রি,বাবু দলুইদের মতো তাদের এই একই পথে যেতে যাতে না হয়। ধর্ণারত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের অভিযোগ, তারা মেধাতালিকায় সামনের দিকে থাকা চাকরি প্রার্থী হয়েও চাকরিতে এখনও নিয়োগপত্র পাননি। অথচ তাদের পিছনে থাকা বহু প্রার্থীদের চাকরিতে নিয়োগ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মেধাতালিকায় কোথাও নাম নেই এমন ফেলকরা বহু প্রার্থীদেরও চাকরিতে নিয়োগ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের। ধর্ণারত বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের দাবি মেধাতালিকা ভুক্ত সকল চাকরি প্রার্থীদের অতি দ্রুত চাকরিতে নিয়োগ করতে হবে।

ধর্ণারত বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীগণ জানিয়েছেন যে ২০১৯ সালে কলকাতার প্রেসক্লাবের সামনে যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চের ব্যানারে তারা ২৯ দিন ব্যাপী অনশন ও করেছিলেন। সেই মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এসে অনশনরত বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে মেধাতালিকা ভুক্ত কোন চাকরি প্রার্থীদের বঞ্চিত করা হবে না। প্রয়োজনে আইনের কিছু পরিবর্তন করে হলেও মেধাতালিকা ভুক্ত অথচ বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের চাকরিতে নিয়োগের সুব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু ২০১৯ সালে দেওয়া মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস ২০২২ সালে এসেও কার্যকর হয়নি, চাকরিতে নিয়োগপত্র পাননি বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীগণ। যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চের স্টেট কো- অর্ডিনেটর সুদীপ মন্ডল বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই বিষয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন রেখেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *