আমাদের ভারত, ১১ জুন: আগামী ২০ জুন রাজ্য জুড়ে উদযাপিত হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ দিবস। ১৯৪৭ সালে এই দিনটিতে আইন সভায় ভোটাভুটির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে হুগলির তারকেশ্বরে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। সেখানে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী।
মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্য সরকারের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে নরেন্দ্র মোদী এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছেন। মূলত ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তারকেশ্বরের একটি সম্মেলন থেকেই পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক যোগসূত্রকে সম্মান জানাতেই স্থানটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
এবছর পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনকে কেন্দ্র করে রাজ্য জুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নবান্নের দেখানো পথেই এবার বড় পদক্ষেপ নিলো রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দপ্তর। রাজ্যের সমস্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে আগামী ২০ জুন বাধ্যতামূলকভাবে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু একটি দিনই নয়, পরবর্তী দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভার আয়োজন করতে বলা হয়েছে।
মূলত নতুন প্রজন্মের ছাত্র- ছাত্রীদের কাছে পশ্চিমবঙ্গের সৃষ্টি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, বাঙালি হিন্দুদের নিজস্ব হোমল্যান্ড হিসেবে এই রাজ্যের আত্মপ্রকাশের ইতিহাস তুলে ধরতে সচেতনতা মূলক ভাবেই এই উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।
তবে এই উদযাপনের সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির প্রশাসনিক স্তরে এক বড় রদবদলে ইঙ্গিত দিয়েছেন উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রী। তৃণমূলের আমলে বিগত সরকারের জমানায় স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বহু সদস্যকে মনোনীত করা হয়েছে। আগে রাজ্যে অনুমোদিত কলেজগুলির গভর্নিং বডি বা পরিচালন সমিতি ভেঙে দেওয়া হলেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্ট কাউন্সিলে, এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের এখনো আগের জমানায় মনোনীত অনেক সদস্যই থেকে গেছে। এমনকি বর্তমান রাজ্য সরকারের সঙ্গে যাদের রাজনৈতিক মতাদর্শের কোনো মিল নেই। তারাও ওই সব পদে বহাল আছেন।
এই প্রসঙ্গে এক প্রকাশ্য বার্তায় খুব স্পষ্ট করে উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রী জানিয়েছেন, যারা বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দর্শনে বিশ্বাসী নন, তারা যেন নিজেদের বিবেকের ডাকে সাড়া দিয়ে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। মন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, এই সমস্ত সদস্যদের মধ্যে অনেকে আগের সরকারের আমলে আচার্য বা রাজ্য সরকারের মাধ্যমে মনোনীত হয়ে এসেছেন, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির খাতিরে এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে তাদের অবিলম্বে পথ ছেড়ে দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে মন্ত্রীকে বলতে শোনা গেছে, বিবেকের ডাকে সাড়া দিয়ে যদি এই সদস্যরা নিজেরা পদত্যাগ না করেন তাহলে আগামী দিনে শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

