আমাদের ভারত, ২৩ জুলাই: তৃণমূলের নেতা কর্মীরা বার বার দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার গর্ব। কেউ তাকে মা সারদা, কেউ তাকে দেবী অন্নপূর্ণা, কেউ তাকে ভোগনী নিবেদিতার সঙ্গে তুলনা করে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন। কিন্তু স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ দুর্নীতিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আত্মীয়ের বাড়ি থেকে বিপুল সম্পত্তি ইডি উদ্ধার করেছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। আর এই বিরাট দুর্নীতির ঘটনার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কখনো দায় এড়াতে পারেন না বলেই দাবি করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। সুকান্ত মজুমদারের কথায় এই মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পদত্যাগ করা উচিত।
আজ পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতারের পর একটি সাংবাদিক বৈঠকে সুকান্ত মজুমদার বলেন, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী ও বর্তমান শিল্পমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে ও ১৪টি জায়গায় ইডি তল্লাশি চালিয়েছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এক মহিলার কাছ থেকে ২১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। ৫০ লক্ষ টাকার গয়না পাওয়া গেছে। এছাড়া বেশকিছু বৈদেশিক মুদ্রাও মিলেছে। এটা প্রমাণ করছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যখন শিক্ষা দপ্তর ছিল তখন স্কুল সার্ভিস কমিশনের যে নিয়োগ হয়েছে তা সম্পূর্ণ টাকার বিনিময় হয়েছে। সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ সুরে বলেন, আক্ষরিক অর্থে চাকরি বিক্রি করা হয়েছে নিলাম করা হয়েছে। সে কারণেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করেছে ইডি। তিনি বলেন, ” তৃণমূল কংগ্রেস তাদের কাঁধ থেকে সমস্ত দায়ভার ছুড়ে ফেলার চেষ্টা করেছে। যদিও ভোটের সময় আমরা দেখেছি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলতেন সব জায়গায় প্রার্থী নাকি তিনি। স্বাভাবিকভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বা তার দল কোনো ভাবেই এই দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। হাজার হাজার ছেলেমেয়ে যারা বঞ্চিত হয়েছে, চোখের জল ফেলছে যারা এখনো পর্যন্ত গান্ধী মূর্তি পাদদেশে বসে অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের চোখের জল শুকিয়ে গেছে অনেকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। তাদের দায় শিক্ষা মন্ত্রী তথা মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে নিতে হবে। ”
সুকান্ত মজুমদার বলেন,” তৃণমূল কংগ্রেসের নিচের তলা থেকে উপর তলা পর্যন্ত সমস্ত ব্যক্তি এই কেলেঙ্কারির সাথে যুক্ত। ভোটের সময় দেখেছি তৃণমূল কংগ্রেসপ্রচার করতে বাংলার গর্ব মমতা। এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি বাংলা লজ্জা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ বাংলার ইতিহাসে এই ধরনের কোন ঘটনা ঘটতে আগে দেখিনি যেখানে কোনো একজন মন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি বা প্রকারান্তরে মন্ত্রীর কাছে নগদ ২১ কোটি টাকা পাওয়া যাচ্ছে। পরে শোনা যাচ্ছে তাদের কাছে ১০টি ফ্লাইট চারটি জমি রয়েছে।”
এছাড়াও আরো একজন অধ্যাপিকার নাম জানা গেছে তার নামেও প্রচুর ফ্ল্যাট আছে বলে জানা যাচ্ছে। খোঁজ নিলে জানা যাবে, তিনি অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর থেকে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হয়েছে মাত্র চার বছরে। যা ইউজিসি’র নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণ বেআইনি। শুধুমাত্র পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ বলেই এটা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রাইমারি থেকে উচ্চশিক্ষায় এইভাবে চাকরির বিক্রি করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে নিলামে তুলে দেওয়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের সময়ে।
অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে শুধু এডমিট কার্ড পাওয়ার ঘটনায় সুকান্ত মজুমদার বলেন, শুধু অ্যাডমিট কার্ড পাওয়া নয় শিক্ষা দপ্তরের লোগো থাকা খাম এবং সেখানে ভর্তি টাকা পাওয়া গেছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কোনদিন এসব দেখেনি। বাঙালি হিসেবে আজকে লজ্জায় আমাদের মাথা হেট হয়ে যাচ্ছে। এডমিট কার্ড যার বাড়িতে মিলছে সে কোনদিন স্কুলে পড়াই পর্যন্ত নেই, সে কিনা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কে চাকরি পাবে কে চাকরি পাবে না। তাকে কত টাকা দেওয়া হয়েছে সেই ভিত্তির উপরে চাকরি বিলি হয়েছে।
সুকান্ত মজুমদার বলেন, এই ঘটনায় গোটা বাংলার মানুষ গর্জে উঠবে। গোটা বাংলার মানুষ এই সরকারি উৎখাত করার জন্য আগামী দিনে রাস্তায় নামবে।

