সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৫ মার্চ: পুরুলিয়া হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ হাাপাতাল ফের চালুর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। চার দশক আগে প্রতিষ্ঠিত, বন্ধ থাকা পুরুলিয়া শহরের দুলমী এলাকায় অবস্থিত হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ফের চালুর সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় উৎসাহ দেখা দিয়েছে পুরুলিয়াবাসীর মধ্যে।
আজ রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের আয়ুষ বিভাগ থেকে একটি প্রতিনিধি দল পরিদর্শন করে সেই আশার কথা শুনিয়ে গেলেন। ওই দলে ছিলেন হোমিওপ্যাথি বিভাগের সহকারি নির্দেশক ডা: আশীষ কুমার ঘোষ সহ তিন জন। এছাড়া ছিলেন জেলা মেডিক্যাল অফিসার, আযূষ। পরিকাঠামো থেকে শুরু করে কাগজপত্র দেখে রিপোর্ট জমা করবেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। তারপরে কি আবার নতুন করে চালু হবে এই হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল? আশার আলো দেখছে জেলা পুরুলিয়া।

১৯৬৯ সালে প্রান্তিক জেলা পুরুলিয়ায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে দুলমি এলাকায় পুরুলিয়া হোমিওপ্যাথি হাসপাতাল তৈরি হয়। ১৯৮০ সালে পুরুলিয়া হোমিওপ্যাথি হাসপাতাল মেডিক্যাল কলেজে পরিণত হয়।
ইনডোর ও আউটডোর পরিষেবার পাশাপাশি শুরু হয় পঠন পাঠন। ৫০ টি আসন পড়ুয়াদের জন্য বরাদ্দ ছিল। এলাকার দুঃস্থ মানুষ, চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছিলেন। মিলছিল সরকরি সাহায্যও। এতদূর পর্যন্ত সব ঠিকঠাক চললেও ২০০২- ২০০৩ সালে এই মেডিকেল কলেজটি জয়েন্টের অন্তর্ভুক্ত হয়। আর তারপর থেকেই কলেজে ছাত্রসংখ্যা কমতে শুরু করে। এক সময় পড়ুয়া ও পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাব দেখিয়ে মেডিকেল কলেজের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেয় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক।
তাঁর পর থেকে এই হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুনরায় খোলার দাবি জানিয়ে জেলাজুড়ে আন্দোলন শুরু হয়। পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার গঠন করেন। ২০১২ সালে ৩ ডিসেম্বর, হুটমুড়ায় সরকারি জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কলেজটিকে সরকারি অধিগ্রহণ করা হবে বলে জানান। তারপর কেটে গেছে এক দশক। মেডিকেল কলেজ খোলার কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। কিন্তু, সম্প্রতি জেলাজুড়ে এই মেডিকেল কলেজ খোলার দাবি ফের জোড়ালো হয়।

আর এদিন রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রতিনিধি দল পুরুলিয়া হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শনে এলে হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল খোলার ব্যাপারে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন জেলার মানুষ। ভবনের পরিকাঠামো ও সমস্ত নথি দেখে, রিপোর্ট জমা করা হবে। তারপর সরকার সিদ্ধান্ত নেবে, জানালেন পরিদর্শনে আসা অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অফ হোমিওপ্যাথি আশীষ কুমার ঘোষ।
এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রাক্তন পড়ুয়া ও চিকিৎসক নবকুমার পানি। তিনিও চাইছেন আবার খুলুক হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দরজা। পরিষেবা পাক মানুষ।
যদিও, হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডক্টর মণীন্দ্র জানা বলেন, এর আগেও বহুবার প্রতিনিধি দল এসেছে গেছে, লাভের লাভ হয়নি। তাও আশা ছাড়েননি তারা।
খুলুক পুরুলিয়া হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় হোক উন্নতি। সাধারণ মানুষ পাক পরিষেবা।

