আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ২৩ এপ্রিল: ২০২১-এর নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় ঘরছাড়াদের ঘরে এবং কর্মস্থলে ফেরানোর কাজ শুরু করলো জগদ্দল থানার পুলিশ। আজ ৮ জন ঘরছাড়া বিজেপি কর্মীকে ঘরে এবং কর্মস্থলে নিয়ে যায় জগদ্দল থানার পুলিশ।
২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের দিন ২ মে থেকে বিজেপি করার অপরাধে ঘরছাড়া ছিলেন তারা। সেই সময় জগদ্দল ভাটপাড়া পৌর এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক হিংসার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেই সময় রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ গেছিলো বেশ কয়েক জনের। তার থেকে বাঁচতে ঘর ছেড়েছিলেন বহু বিজেপি কর্মী। ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং ও বিজেপির তরফে অভিযোগ করা হয়, অনেক বিজেপি কর্মী, সমর্থকরা ঘরছাড়া রয়েছেন, তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হোক। প্রশাসনের তরফে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় হাইকোর্টের আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিব্রুয়েল এই মর্মে মামলাও করেন। এরপর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে ও হাইকোর্টের নির্দেশে ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানো কাজ শুরু হয়। সেই সময় ঘরছাড়া বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের স্থানীয় এক্সাইড ব্যাটারি কারখানায় কাজে যোগ দিতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তোলে বিজেপি নেতারা। যার ফলে কর্মহীন হয়ে কাজের তাগিদে এবং নিজেদের প্রাণ বাঁচানোর জন্যে নিজের বাড়ি সংসার ছেড়ে চলে যেতে হয়। পরবর্তীতে বিজেপি কর্মীদের কাজ ফিরিয়ে দেওয়ার আর্জি নিয়ে হাইকোর্টে আবার আবেদন জানান আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিব্রুয়েল। কোর্টের শুনানির পর কোর্টের নির্দেশে বিজেপির ঘর ছাড়া কর্মীদের ঘরে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করে জগদ্দল থানা।
দফায় দফায় ঘর ছাড়াদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ঘরে ফেরার ব্যবস্থা করে জগদ্দল থানার পুলিশ।

জগদ্দল থানা সূত্রে খবর, নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরাতে সব সময় তৎপর ছিল জগদ্দল থানার পুলিশ। তারা ইতিমধ্যেই অনেকেই যোগাযোগ করে ঘরে ফিরিয়ে দিয়েছেন। বেশ কয়েকজন এরকমও আছে তারা ফিরতে চাইছেন না। তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছে পুলিশ। এই ঘরছাড়াদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা স্থানীয় এক্সাইড ব্যাটারি তে ঠিকা কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। পুলিশ দায়িত্ব নিয়ে তাদের ফ্যাক্টরিতে ঢোকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তবে সূত্রের খবর অনুযায়ী ঠিকাদার ও কারখানা কর্তৃপক্ষ এই বিজেপি কর্মীদের কাজে রাখবেন কি না সেই সিদ্ধান্ত তাদের ওপর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। এদিন ঘর ছাড়া বিজেপি কর্মীদের দেখে মনে হলো যেন এখনো আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন তারা। তাদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের ঘর ছেড়ে অন্য জায়গায় কোনো আত্মীয়দের বাড়ি চলে গেছিলেন বলে জানালেন।

