রাজ্যে প্রথম গ্রামীণ প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবকদের সংগঠনের মাধ্যমে সরকারি স্বীকৃতি পত্র দেওয়া হল পুরুলিয়ায়

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৩ এপ্রিল: গ্রাম ও শহরাঞ্চলের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নে জোর দিতে রাজ্যের মধ্যে প্রথম ‘হাতুড়ে চিকিৎসক’দের সরকারি স্বীকৃতি দিল জেলা স্বাস্থ্য দফতর। শনিবার পুরুলিয়ার রবীন্দ্রভবনে একটি স্বাস্থ্য সম্মেলনের মধ্য দিয়ে এই স্বীকৃতি সূচক পরিচয় পত্র দেওয়া হয়। যা রাজ্যে প্রথম। যদিও সরকারি এই পরিচয়পত্র দেওয়া হল তৃণমূল কংগ্রেসের ‘প্রোগ্রেসিভ রুরাল মেডিকেল প্রাকটিশনার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’ এর মাধ্যমে।

পুরুলিয়া জেলা গ্রামীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অন্যতম ভরসা হল গ্রামের হাতুড়ে চিকিৎসক। খাতায় কলমে সরকারি স্বকৃতি না থাকলেও গ্রামে এরাই দীর্ঘ দিন ধরে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। কোভিড আবহে যখন চিকিৎসা পরিকাঠামো রাজ্যে ভেঙে পড়েছিল তখন জেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে এই হাতুড়ে চিকিৎসকরা চিকিৎসা ব্যবস্থার সামাল দিয়েছিলেন। সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এই হাতুড়ে চিকিৎসকদের প্ৰশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের গ্রামীণ স্বাস্থ্য কর্মীর স্বীকৃতি দেওয়া কথা জানিয়েছিলেন। সেইমত পুরুলিয়া প্রোগ্রেসিভ রুরাল মেডিকেল প্র্যাকটিশনার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে জেলার প্রায় ১৫০০ হাতুড়ে চিকিৎকদের এক ছাতার তলায় আনে সরকার। এদিন সেই সংগঠন পরিচালনায় এদিন রবীন্দ্রভবনে জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগ হাতুড়ে চিকিৎসকদের ইনফরমাল নামে তাঁদের সরকরি স্বীকৃতি দিয়ে পরিচয় পত্র দিয়ে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আগামী দিনে তাদের সরকরি ভাবে প্ৰশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানানো হয়।

জেলার গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত পরিসেবকদের সংগঠনে যুক্ত করতে উদ্যোগী হল তৃণমূল কংগ্রেস। আজ প্রোগ্রেসিভ রুরাল মেডিক্যাল প্র্যাক্টিসনারস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পুরুলিয়া জেলা কমিটির আলোচনা সভায় সেই বার্তায় দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা। জেলার রোগী কল্যাণ সমিতির সভাপতি প্রাক্তন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো বলেন, “দিদির হাত যত বেশি শক্ত করবেন তত বেশি নিজেরা সুরক্ষিত থাকবেন এবং সুযোগ সুবিধা পাবেন।” কার্যত মঞ্চ থেকেই এই সংগঠনের মাধ্যমে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সোপান তৈরি করছে তৃণমূল।

বক্তব্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে পুরুলিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান নবেন্দু মাহালি বলেন, “এই পরিচয় পত্র নিয়ে তৃণমূলের হয়ে কাজ করতে হবে। যাঁরা দলের সঙ্গে যুক্ত নন তাঁদের যেন এই স্বীকৃতি না দেওয়া হয়।”

সরকারি স্বীকৃতি প্রাপ্ত এই সব গ্রামীণ প্রাথমিক চিকিৎসকদের দলের হাত শক্ত করার হুঁশিয়ারি দিলেন বক্তারা।

প্রসঙ্গত, পুরুলিয়া জেলায় প্রায় ২১০০ জন প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিসেবক রয়েছেন। এঁদের মধ্যে ১৫০০-র বেশি প্রোগ্রেসিভ রুরাল মেডিক্যাল প্র্যাক্টিসনারস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হয়েছেন। আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাঁদের মাধ্যমে দলীয় প্রচারের পরিষ্কার ইঙ্গিত দিতে দেখা গিয়েছে পুরুলিয়া রবীন্দ্রভবনে আয়োজিত আলোচনা সভায়।

সংগঠনের জেলা সভাপতি তথা তৃণমূল জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া বলেন, “উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে যোগ্যদের সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলিতে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *