আমাদের ভারত, রামপুরহাট, ২১ জুন: এবার আটক করা হলো তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতিকে। তার সঙ্গে আরও তিন জন বীরভূমের মাড়গ্রামের বাসিন্দাকে আটক করা হয়েছে। রেশম শিল্পীদের বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ তছরুপের অভিযোগ রয়েছে ধৃতদের বিরুদ্ধে। পুলিশ অভিযুক্তদের আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় চোর চোর চিৎকার শুরু করেন গ্রামবাসীরা। তবে পুলিশ দ্রুত তাদের গাড়িতে তুলে এলাকা ছাড়ে।

ঘটনাটি ঘটেছে রামপুরহাট ২ নম্বর ব্লকের রেশম শিল্পী তন্তুবায় সমবায় সমিতিতে। এই সমিতির মাধ্যমে সিল্ক থান, তসর থান বিক্রয় এবং তৈরি করা হয়। হ্যান্ডলুমের উন্নয়নে এবং শিল্পীদের পাশে থাকার জন্য এই সমিতির কাজ করার কথা। শিল্পীদের সাহায্যে এই সমিতিতে লক্ষ লক্ষ টাকা পাঠায় সরকার। কিন্তু রেশম শিল্পীদের অন্ধকারে রেখে সরকারি তহবিল তছরুপ করা হয় বলে অভিযোগ। তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি নন্দ দুলাল দাসের নেতৃত্বে মনগড়া কমিটি তৈরি করে টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছিল বলে রেশম শিল্পীদের অভিযোগ। দিন দুয়েক আগে এনিয়ে বিষ্ণুপুর গ্রামের ষষ্ঠীতলা পাড়ার ওই সমবায় সমিতিতে জমায়েত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিল্পীরা। রবিবার ওই সমিতির হিসাব দেওয়ার কথা ছিল। সেই মতো সকাল থেকে সমবায় সমিতিতে হিসাব করতে বসেন কমিটির সদস্যরা। বিকেল পর্যন্ত সঠিক হিসেব দিতে না পারায় বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন রেশম শিল্পীরা। শিল্পীরা কমিটির সদস্যদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভের ঝাঁজ বাড়াতে থাকেন। ওঠে চোর চোর স্লোগান। অবস্থা বেগতিক দেখে মাড়গ্রাম থানার পুলিশ তৃণমূলের বিষ্ণুপুর অঞ্চল সভাপতি নন্দ দুলাল দাস, সদাই চরণ মণ্ডল, কৃষ্ণ নন্দ দালাল এবং অশোক মণ্ডলকে আটক করে নিয়ে যায়।
মাড়গ্রাম খেদা পাড়ার বাসিন্দা রেশম শিল্পী নিতাই পদ মাল বলেন, “আমার কাছ থেকে বাড়ি দেওয়ার নামে তিন হাজার টাকা নিয়েছিল সাধন দালাল। কিন্তু ঘর দেওয়া হয়নি।“
বিজেপির মণ্ডল সভাপতি প্রান্তিক দাস বলেন, “এই সমবায় সমিতিতে একজন নিরীহ মানুষকে সম্পাদকের চেয়ারে বসিয়ে তৃণমূলের কিছু নেতা লক্ষ লক্ষ টাকা লুটেপুটে খেয়েছে। আমরা সমবায়ের আয়- ব্যয়ের হিসাব চেয়েছিলাম। কিন্তু সেই হিসাব দিতে পারেনি। তাই পুলিশ তাদের ধরে নিয়ে গিয়েছে”।
যদিও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ আধিকারিক জানান, এনিয়ে কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে এলাকায় তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়তে থাকায় আমরা চারজনকে জনরোষের হাত থেকে রক্ষা করতে থানায় নিয়ে এসেছি।

