অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ২১ ফেব্রুয়ারি: আনিস খানকে হত্যার ঘটনায় সিবিআই তদন্ত চেয়ে সোমবার প্রদেশ কংগ্রেস দফতর থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিলের ডাক দেয় ছাত্র পরিষদ। পথে পুলিশের সঙ্গে মিছিলকারীদের ধ্বস্তাধ্বস্তি হয়। আহত হয় বেশ ক’জন মিছিলকারী। এ ঘটনার পর প্রতিবাদীরা পথ অবরোধ করে। সব মিলিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয় এলাকায়।
ছাত্র পরিষদের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি সৌরভ প্রসাদ এই প্রতিবেদদকে জানান, আনিস খান ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন কর্মী তথা সমাজকর্মী ও ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ। তাঁকে হত্যার প্রতিবাদে আজ প্রদেশ দফতর থেকে মিছিল মৌলালির দিকে এগোতেই পুলিশ বাধা দেয়। তখন ছাত্র পরিষদের নেতৃত্বের সাথে পুলিশের ধস্তাধস্তি বেধে যায়। পুলিশ ছাত্র পরিষদ নেতৃত্বকে ঘুষি, কিল, চড় এমনকি হেলমেট দিয়ে মারতে থাকে।

ঘটনার জেরে সৌরভ প্রসাদ ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ দর্জির মাথা ও মুখ ফেটে যায়। ওই অবস্থাতেই তাঁরা রামলীলা ময়দানের সামনে অবস্থানে বসে যান। প্রায় ১ঘন্টা অবস্থান চলে। যে পৈশাচিক কায়দায় খুন করা হয়েছে তা আমাদের নাড়া দিয়ে যাচ্ছে। সরকার রাষ্ট্র যন্ত্রকে ব্যবহার করে বিরোধীদের খতম করার খেলায় মেতে উঠেছে, ঘটনার ৭২ঘন্টা কেটে গেলেও এখনও এটা পরিষ্কার হলো না যে আনিস খানের খুনিরা আদতে পুলিশ না কি পুলিশের বেশে আততায়ী!”
সৌরভের বক্তব্য, “এ ঘটনা প্রমাণ করে এরাজ্যের প্রশাসন আদতে কতটা অপদার্থ। তাই অবিলম্বে পুলিশ মন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করার পাশাপাশি সরকারকে মনে করিয়ে দিতে চাই আজকের মতই ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সরকার তার রাষ্ট্রযন্ত্রকে দিয়ে ছাত্র আন্দোলন রুখতে গিয়েছিলো সেই ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব শহিদ হলেও তাদের দাবিকে সরকার প্রতিহত করতে পারেনি। ঠিক তেমনই রাজ্যের এই অহংঙ্কারী অসৎ সরকারও খুব দ্রুত ক্ষমতাচ্যুত হবে।“

