পুরভোটের প্রচার জমে উঠতেই সরগরম  শ্রীরামপুর পুরসভা এলাকা, কাজের নিরিখে ভোট চাইছেন শাসক বিরোধী দুই শিবিরই  

আমাদের ভারত, হুগলী, ২১ ফেব্রুয়ারি: পুরভোটের  প্রচার জমে উঠতেই সরগরম শ্রীরামপুর পুরসভা। এই পুরসভায় এবার ত্রিমুখী লড়াই হতে 
চলেছে।স্বাভাবিক ভাবেই পুরসভা দখলের লড়াইতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন বাম, বিজেপি ও তৃণমূল। শ্রীরামপুর  পুরসভায় মোট ২৯ টা ওয়ার্ড। ২০১৫ সালে এই 
পুরসভায় ২২টা আসন 
পেয়েছিল তৃণমূল। নির্দল ১টা আসন 
পেয়েছিল। একটি আসন পেয়েছিল কংগ্রেস।৫টি আসন পেয়েছিল বামেরা।

২২ সালের পুর নির্বাচনে 
এবার তৃণমূলের নতুন মুখ দশটা। তার মধ্যে মহিলাদের সংখ্যাই বেশি।চলতি পুরভোটে শ্রীরামপুর পুরসভায়
তৃণমূলের নির্দল কাঁটা 
মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে উঠেছে তৃণমূলের। ২, ১০ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের নির্দল প্রার্থীর যন্ত্রনা আছে।তিনজন নির্দল প্রার্থী এবার ভোটে লড়ছেন।

লোকসভা ভোটের নিরিখেশ্রীরামপুর পুরসভায় ২১ টা ওয়ার্ডে তৃণমূল
এগিয়েছিল। ৮টা ওয়ার্ডে বিজেপি 
এগিয়েছিল। ১টায় সিপিএম এগিয়েছিল।বিধানসভা ভোটের নিরিখে সেই চিত্র পালটে যায়। ২৯টা ওয়ার্ডের মধ্যে ২৭টা ওয়ার্ডেই এগিয়ে যায় 
তৃণমূল। ২টো ওয়ার্ডে এগিয়ে ছিল বিজেপি।

কেন এবার পুরভোটে মানুষ তৃণমূলকে ভোট 
দেবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে শ্রীরামপুর পুরসভার 
বিদায়ী পুরপ্রশাসক তথা আট নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী গৌড়মোহন-দে বলেন, শ্রীরামপুর পুরসভা জুড়ে 
ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বিগ বাজেটের একাধিক  প্রকল্পে কাজ হয়েছে।সেগুলি হল ১ কোটি টাকা ব্যায়ে পুরসভাতেই একটি শীততপ নিয়ন্ত্রিত অডিটরিয়াম ও টাউন হল হয়েছে। এর ফলে শহরের মানুষের ব্যাপক সুবিধা হয়েছে। বল্লভপুর শ্মশানঘাটে একসাথে দুটি শবদাহ করার সু-ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৭৩ কোটি টাকা ব্যায়ে নতুন জলকল প্রকল্প তৈরি হয়েছে গঙ্গার ধারে। এছাড়া শহর জুড়ে পঞ্চাশ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নতুন পাইপ লাইন বসানো হয়েছে। ভবঘুরেদের জন্যে নিশ্চিত আবাসন তৈরি হচ্ছে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঝাউতলা এলাকায়। শহরজুড়ে দীর্ঘ দিনের বড় একটা সমস্যা ছিল নিকাশির। কয়েক মাস আগেই কেএমডির ইঞ্জিনিয়ারদের সাহায্যে ডুবুরি নামিয়ে তিন মাস ধরে নোংরা পরিস্কার করা হয়েছে। এর ফলে গোটা শহরের মানুষের সুবিধা হয়েছে। নতুন একটা পাম্পিং স্টেশন তৈরি করে শ্রীরামপুর কাটা পোল এলাকায় নিকাশির স্থায়ী ব্যাবস্থা করা হয়েছে। এই ঘটনায় কয়েক হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছেন।
শহর জুড়ে ৯ হাজার লাইট লাগানো হয়েছে। আটটা নতুন জলের ট্যাঙ্ক তৈরি করা হয়েছে। বাংলা আবাস যোজনায় দেড় হাজার মানুষকে বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। নতুন করে তিনটে কমিউনিটি হল তৈরি হয়েছে।

গৌড়মোহন দে বলেন, শ্রীরামপুরে সব থেকে বড় সমস্যা অটো টোটোর জন্যে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক যানজট হচ্ছে। এই ঘটনায় মানুষ ভীষণ ভাবে বিরক্ত ছিলেন। এই সমস্যা মেটাতে আগামী দিনে একটি রুটম্যাপ তৈরি করে সেই ভাবে অটো টোটো চলতে দেওয়া হবে।

শ্রীরামপুর পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিএমের বিদায়ী কাউন্সিলর তথা প্রার্থী ভারতী সেন অবশ্য পুরসভার কাজ নিয়ে কোনও নিন্দামন্দ করতে চাননি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পুরসভা আমাকে যে পরিমাণ কাজ দিয়েছে পুরো কাজটাই করেছি। তবে এই ওয়ার্ডে তৃণমূল জিতলে ওয়ার্ড জুড়ে একটা অশান্তির আশঙ্কা করছি।  

পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী শর্মিষ্ঠা দাস বলেন, এই ওয়ার্ডে মানুষ সিপিএমকে ভোট দেবে না। কারণ, কোভিড পরিস্থিতিতে সিপিএম মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি। মানুষের বিপদে আপদে তৃণমূলই পাশে দাঁড়িয়েছে। এই ওয়ার্ডে তৃণমূল জিতলে ব্যাপক ভাবে মানুষের জন্যে কাজ করবো। ওয়ার্ডে অশান্তি হওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *